চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মারছা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁদের মৃত্যু ঘটে। এর ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে চার জন।

আজ বেলা পৌনে ১১টায় উপজেলার চুনতির ফোর সিজন রেস্টুরেন্টের সংলগ্ন এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই একজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত ছয়জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আহত পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় দুজনের মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন মুক্তকণ্ঠকে আরও দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া যাত্রীর নাম রেহেনা বেগম। তিনি পটিয়া উপজেলার বদিউল আলমের স্ত্রী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে নাঈম জিহাদের। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহে। নিহত অপর দুজন হলেন—মো. নাঈম ও মো. মনির। তাঁদের মধ্যে নাঈমের বাড়ি ঝিনাইদহ এবং মনিরের বাড়ি ভোলায়।

প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারছা পরিবহনের দ্রুতগতির দুটি বাসের একটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাচ্ছিল। অন্যটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে আসছিল। লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় বাস দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পূর্ব পাশের একটি গাছে ধাক্কা দেয়। অন্য বাসটি মহাসড়কের পশ্চিম পাশের একটি দোকানে ঢুকে যায় এবং পরে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে মালামালের ক্ষতি হয় কিন্তু দোকানের ভেতরে কেউ আহত হননি। দুর্ঘটনায় বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ফিরোজ খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি লাশ উদ্ধার করি। ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে ফায়ার সার্ভিস।’

লোহাগাড়ার চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্বাস আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুর্ঘটনায় ২০-২৫ জনের বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করেন।