হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ আগামী সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু মুক্তির ঠিক আগে ছবিটি নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। একের পর এক অভিযোগে এখন এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কদিন আগে চিত্রনায়িকা মৌসুমী ছবিটি নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, “এটি কোনো সিনেমা নয়, নাটকের কথা বলেই যুক্তরাষ্ট্রে এটির শুটিং হয়েছিল।”
মৌসুমীর পর ছোটপর্দার অভিনেত্রী জেবা জান্নাত ছবিটি নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছেন। সিনেমার পোস্টারে মৌসুমীর পাশাপাশি জেবা জান্নাতকেও দেখা গেছে। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। এমনকি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে কোনো সিনেমা বা নাটকে অভিনয়ও করেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে জেবা জান্নাত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া টেলিভিশন অভিনেতাদের সংগঠন অ্যাক্টরস ইকুইটিতেও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। গত বুধবার অভিযোগ জানালেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন জেবা জান্নাত।
তাঁর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, “হাসান জাহাঙ্গীর নামক এক পরিচালক এবং অভিনেতার সঙ্গে মৌখিকভাবে একক নাটকে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হই। নাটকে আমার সহশিল্পী হিসেবে সিয়াম মৃধাকে রাখা হয়। কিন্তু সিয়াম মৃধার সঙ্গে আমার অভিনয়ের পরিবর্তে হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আমাকে অভিনয় করানো হয়। আমি প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এটা স্বপ্নের একটা দৃশ্য।” বিষয়টি নিয়ে আমি আর কথা বাড়াইনি।”
জেবা জান্নাত আরও লিখেছেন, “শুটিং শেষ হওয়ার অনেক সময় পর হঠাৎ দেখি আমার ছবিযুক্ত বাংলা সিনেমার পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি দেখে আমি যারপরনাই হতাশ। পরে আমি হাসান জাহাঙ্গীরের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। যেখানে সিনেমা করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি, যা সে দেখাতে পারে।”
শুক্রবার দুপুরে জেবা জান্নাত মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এখন ঈদের শুটিংয়ের ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে “কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ” ইস্যু নিয়ে মানসিকভাবে এতই বিধ্বস্ত যে কোনো কাজে মন দিতে পারছি না। নাটক–সিনেমার সব সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে সে ঠিকই সিনেমা হিসেবে “কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ” মুক্তি দেবে!”
জেবা জান্নাত আরও বলেন, “আমি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি না। লড়াইটা আমার ক্যারিয়ারের জন্যও না। তিনি যে কাজটা করেছেন তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। একজন মানুষ এমন অনৈতিক কাজ করে পার পেয়ে যাবে!”
জেবা জান্নাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান জাহাঙ্গীর। তাঁর দাবি, জেবা সবকিছু জানেন। জেবার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পাঠিয়ে তিনি জানান, অনুমতি নিয়ে সিনেমা মুক্তির বিষয়ে সেখানে কথা হয়েছে। চুক্তিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি হাসান জাহাঙ্গীর। মুক্তকণ্ঠের কাছে তিনি দাবি করেছেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান দেখার পর “কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ” মুক্তির অনুমতি দিয়েছে। সরকারের ওপর তো আর কিছু নেই। আমি এখন মুক্তির আগমুহূর্তের ব্যস্ততায় আছি। সিনেমা মুক্তির সময় এসে এ ধরনের অভিযোগ কেন আসবে?”
কল রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে জেবা জান্নাতের সঙ্গে কথা হয়। তিনি মুক্তকণ্ঠকে জানান, এটি খণ্ডিত কল রেকর্ড। হাসান জাহাঙ্গীরের সততা থাকলে পুরো কল রেকর্ড প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে অভিনেতা সিয়াম মৃধাও অভিযোগ করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “পুরো গল্পটাই এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যেন আমরা কেউ কিছু বুঝতেই না পারি। শুধু আমরা না, বিভিন্ন আর্টিস্টের এক্সট্রা সিকোয়েন্স নিয়েও ‘‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’’-এর ট্রেলার বানানো হয়েছে, এমনকি মুভিতেও ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত একটি সিরিয়ালে কাজের নাম করেই সিনেমাটার অনেক অংশ তৈরি করা হয়েছে।”
পোস্টের শেষে সিয়াম লিখেছেন, “এই সিরিয়ালের বিভিন্ন আর্টিস্টদের এক্সট্রা সিকোয়েন্স কেটে সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ কোনো আর্টিস্টই জানত না যে, তারা সিনেমার জন্য কাজ করছে। সবাই সিরিয়ালের কাজ ভেবেই শুটিং করেছে।”






