৫৬ বছর আগে আজকের দিনে, ৮ মে, দ্য বিটলসের শেষ স্টুডিও অ্যালবাম ‘লেট ইট বি’ প্রকাশিত হয়। ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে তখন টানাপোড়েন চরমে, প্রায় মুখ দেখাদেখি বন্ধ। এই দূরত্ব কমানোর উদ্দেশ্যেই অ্যালবামটির পরিকল্পনা হয়, কিন্তু তার ফল উল্টো—সম্পর্ক আরও খারাপ হয় এবং এটি হয়ে ওঠে তাদের শেষ অ্যালবাম।
পল ম্যাককার্টনি মূলত এই অ্যালবামের পক্ষে ছিলেন নিজেদের মধ্যে বাড়তে থাকা দূরত্ব কমাতে। তাঁর মতে, জটিল স্টুডিও পরীক্ষা–নিরীক্ষা এড়িয়ে সহজ রক অ্যান্ড রোল ঘরানায় ফিরলে ব্যান্ডের অভ্যন্তরীণ কলহ কমবে। এমনকি অ্যালবামটি দর্শকের সামনে লাইভ রেকর্ড করার নতুন ধারণাও ছিল। কিন্তু ১৯৬৯ সালের সেই রেকর্ডিং ও চিত্রধারণ শেষ পর্যন্ত সদস্যদের দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। জন লেনন পরে সেই অভিজ্ঞতাকে বলেছিলেন, “নরক—পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা।”
অ্যালবামটির রেকর্ডিং ‘অ্যাবি রোড’-এর আগেই শেষ হয়, কিন্তু নানা মতবিরোধে দীর্ঘদিন আটকে থাকে। ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে জন লেনন ব্যক্তিগতভাবে ব্যান্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৯৭০ সালের এপ্রিলে দ্য বিটলস আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙনের ঘোষণা দেয়। এরপরই ১৯৭০ সালের ৮ মে ‘লেট ইট বি’ মুক্তি পায়, যা ‘ফ্যাব ফোর’-এর শেষ স্টুডিও অ্যালবাম হয়ে ওঠে। অ্যালবাম থেকে তিনটি বড় হিট গান বের হয়—‘গেট ব্যাক’, ‘লেট ইট বি’ এবং ‘দ্য লং অ্যান্ড ওয়াইন্ডিং রোড’। একই মাসে মুক্তি পায় ‘লেট ইট বি’ ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র, যা সেই বছর একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা অরিজিনাল সং স্কোর বিভাগে অস্কার জেতে।
প্রকাশের পর পল ম্যাককার্টনি ১৯৭০ সালের শেষ দিনে বিটলসের চুক্তিভিত্তিক অংশীদারত্ব ভাঙতে আইনি পদক্ষেপ নেন। সেই লড়াই বহু বছর চলে এবং অবশেষে ১৯৭৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর পরিবারসহ ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডে থাকাকালীন জন লেনন আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও মুক্তির সময় সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র এবং অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক। বিটলসের একমাত্র অ্যালবাম হিসেবে এটি সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিভিউ পায়। যুক্তরাজ্যের সংগীত সাময়িকী এনএমই লিখেছিল, “যদি এই নতুন বিটলস সাউন্ডট্র্যাকই তাদের শেষ কাজ হয়, তবে এটি হবে এক সস্তা সমাধিফলক—এক বিষণ্ন ও জীর্ণ সমাপ্তি।”
তবে সময়ের সঙ্গে মূল্যায়ন বদলে যায়। আজ ‘লেট ইট বি’কে বিটলসের উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করা হয়। রোলিং স্টোন তাদের ‘সর্বকালের সেরা ৫০০ অ্যালবাম’-এর তালিকায় এটিকে স্থান দিয়েছে এবং সুপার ডিলাক্স সংস্করণ মেটাক্রিটিকে ৯১/১০০ পেয়েছে—যা ‘সর্বজনীন প্রশংসা’র স্বীকৃতি।
প্যারেড ম্যাগাজিন ও দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে






