গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় রাজধানীতে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি নেমেছে। এত বৃষ্টি হলে সাধারণত বায়ুর মান উন্নত হওয়ার কথা। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীতে রয়েছে। বায়ুর মান ১৭৭, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। বৃষ্টির পরও এমন অবস্থা কেন? সাতসকালে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল বায়ুমান বিশেষজ্ঞ ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদারকে। তিনি তখন রাজধানীর বেইলি রোডে ছিলেন, গাড়িতে কর্মস্থলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। তিনি কয়েকটি ছবি তুলে পাঠান। ছবিতে দেখা যায়, রাস্তায় চলছে নির্মাণকাজ এবং যেখানে-সেখানে ইট-বালুসহ নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে।

অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার মুক্তকণ্ঠকে বলছিলেন, “উন্মুক্ত অবস্থায় নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে, খোলা অবস্থায় সবকিছু ফেলে রাখা হয়েছে। এ পথ দিয়ে যাওয়া গাড়িগুলোর চাকায় এসব ধুলাবালু জমবে আর সেগুলো পড়বে বড় সড়কে। রাজধানীতে অন্তত ৩০০ জায়গা পাবেন এমন। এগুলোর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ নেই। বৃষ্টি হলে তাই সাময়িকভাবে হয়তো দূষণ কমছে, কিন্তু এসব স্থান থেকে দ্রুত আবার ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ছে। আর এর সঙ্গে ত্রুটিযুক্ত যানবাহন তো আছে। সেগুলোর একটিও তো হাঁকডাক দিয়ে বন্ধ করা যায়নি।”

প্রতিদিনের মতো আজও বায়ুদূষণের এই চিত্র পাওয়া গেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের কাছ থেকে। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।

বায়ুদূষণ নিয়ে সতর্ক শুধু এ প্রতিষ্ঠানই করে না। বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবাদী, চিকিৎসক অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। দূষণ কমাতে গুচ্ছের প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে ঢাকার দূষণ কমেনি, বরং বেড়েছে। এবার মে মাস চলে এল, বৃষ্টি হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন, কিন্তু বায়ুর মানের উন্নতির কোনো লক্ষণ নেই।

কামরুজ্জামান মজুমদার বলছিলেন, শুধু নির্মাণকাজের সময় দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বায়ুর মান কিছুটা হলেও ফিরবে। এ কাজের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। এ জন্য তাদের কোনো আলাদা প্রকল্পের দরকার নেই। তাদের বিদ্যমান আইনেই করণীয় লেখা আছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনগুলোর এসব দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।

দূষণে আজ দ্বিতীয় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, বায়ুর মান ১৫৯। আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় থাকা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (বিআইডিএস)। এ এলাকার বায়ুমান ২১৬। বায়ুর মান দুই শতাধিক হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এমনি আরেক খুব অস্বাস্থ্যকর বায়ু নিয়ে আছে বারিধারা পার্ক রোড এলাকা। এখানকার বায়ুর মান ২০৯। এরপর দূষণের তালিকায় আছে যথাক্রমে গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার (১৯৪), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৮১), উত্তর বাড্ডা (১৬১), বেচারাম দেউড়ী (১৮০), গুলশান লেক পার্ক (১৭৮) ও বারিধারা লেক সাইড (১৭১)।

আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।