পর্দায় ভয়ংকর ভিলেন হিসেবে পরিচিত বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অজিত, যিনি ‘লায়ন’ নামেই বেশি জানা, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল সিনেমার চেয়েও নাটকীয়। তাঁর শীতল সংলাপ, দাপট উপস্থিতি এবং কণ্ঠস্বর দর্শকদের মনে গেঁথে যেত। কিন্তু এই শক্তিশালী চরিত্রের পিছনে লুকিয়ে ছিল জটিল সম্পর্ক, ভাঙা সংসার এবং এক গোপন পরিবারের গল্প।
১৯৭৬ সালের ছবি ‘কালীচরণ’-এ ‘লায়ন’ চরিত্রে অভিনয় করে অজিত একেবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান। এই ভূমিকা তাঁকে বলিউডের স্মরণীয় ভিলেনদের একজন করে তোলে। তবে পর্দার এই শক্তি আড়ালে তাঁর জীবন ছিল বহুমাত্রিক।
অজিত জীবনে তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্ত্রী ছিলেন গেওয়েন, একজন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান নারী। ভালোবাসার এই বিয়েতে সন্তান না হওয়ায় সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। এই চাপে পরিবারের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে তিনি চাচাতো বোন শহীদাকে বিয়ে করেন। এই সম্পর্ক থেকে দ্বিতীয় পরিবার গড়ে ওঠে—স্ত্রী, সন্তান সহ এক পূর্ণাঙ্গ সংসার।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। জীবনের আরেক মোড়ে অজিত তৃতীয়বার বিয়ে করেন সারাহকে। এই তৃতীয় বিয়ের পর শুরু হয় সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়। সারাহর সঙ্গে মুম্বাইয়ে সংসার গড়লেও তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী শহীদা ও সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। বরং হায়দরাবাদে তাঁদের জন্য আলাদা একটি জীবন গড়ে দেন। বছরের পর বছর এই দ্বিতীয় পরিবারকে তিনি গোপন রাখেন, এমনকি তৃতীয় স্ত্রীর কাছেও।
এই গোপন জীবনের কথা অনেক পরে প্রকাশ করেন তাঁর ছেলে শেহজাদ খান। তিনি জানান, তাঁর বাবা একদিকে মুম্বাইয়ে গ্ল্যামার জগতের ব্যস্ত অভিনেতা, অন্যদিকে হায়দরাবাদে আরেক সংসারের দায়িত্ব পালন করতেন। দুই জীবনের এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখতেন অজিত, তা আজও বিস্ময়ের।
শেহজাদের কথায় আরও উঠে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক—পক্ষপাতের অভিযোগ। তাঁর দাবি, অজিত দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি বেশি অনুরাগী ছিলেন। ফলে তৃতীয় সংসারে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়, যা পরিবারে অস্থিরতা বাড়ায়।
অজিতের জীবন যেন দুই ভিন্ন বাস্তবতার কাহিনি। একদিকে আলোকিত বলিউড, যেখানে তিনি ভিলেন হিসেবে ভয় ও মুগ্ধতা জাগাতেন। অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা, গোপনীয়তা ও মানসিক টানাপোড়েন। ১৯৮৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও এই অজানা অধ্যায় আজও আলোচনায় ফিরে আসে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে






