মধ্যপ্রদেশের জবলপুর থেকে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন স্বপ্ন নিয়ে—অভিনেত্রী হওয়ার সেই আকাঙ্ক্ষা ধাপে ধাপে বাস্তবে রূপ নেন শালিনী পান্ডে। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বলিউডেও ধীরে ধীরে নিজেকে মেলে ধরছেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়লেও এবার তাঁর লক্ষ্য আরও নির্দিষ্ট—অ্যাকশন ও অ্যাকশন-কমেডি ঘরানায় চ্যালেঞ্জ নিয়ে পারফর্ম করা।

এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে শালিনী বলেন, ‘আমি এখন অ্যাকশন ফিল্ম করতে চাই। এমন চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেখানে শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা যায়। অ্যাকশন-কমেডিও করতে চাই। “ধুরন্ধর” আমার খুব পছন্দের একটি ছবি, এ ধরনের গল্পে কাজ করার ইচ্ছা আছে।’

বছরের শুরুতে রাহু কেতু ছবিতে শালিনীকে বড় পর্দায় দেখা গেছে, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন পুলকিত সম্রাট। একই সঙ্গে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর সিরিজ ব্যান্ডওয়ালেতেও হাজির হয়েছেন তিনি। এই সময় নিয়ে তিনি জানান, ‘কাজ নিয়েই সময় কাটছে। আমি বেশি কাজ করছি, এ জন্য কৃতজ্ঞ। এখন দুটি নতুন ছবির কাজ শুরু করেছি। বছরটা আমার কাছে রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে। তবে শুনলে হয়তো অবাক হবেন, শুটিংয়ের বাইরে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমার দুই পোষা কুকুরের সঙ্গে সময় কাটাতে।’

২০১৭ সালে তেলেগু ছবি অর্জুন রেড্ডি দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় শালিনীর। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথম ছবিতেই সাফল্য পান তিনি। বক্স অফিসে আলোচিত সেই ছবি ঘিরে এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি বলে আলোচনায় আসে তাঁর ক্যারিয়ার। কয়েক বছরের মধ্যেই ভিন্নস্বাদের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরেছেন—এমন বক্তব্যও বারবার উঠে আসে তাঁর কাজের প্রসঙ্গে।

প্রিয় অভিনেতাদের প্রসঙ্গ আসতেই শালিনী বলেন, ‘রণবীর সিং আর হৃতিক রোশন—এই দুজন আমার সবচেয়ে প্রিয়। তাঁদের এনার্জি, পরিশ্রম আর অভিনয় আমাকে অনুপ্রাণিত করে। হৃতিকের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা আছে।’ এর আগে জয়েশভাই জোরদার ছবিতে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সে বিষয়ে শালিনী বলেন, ‘রণবীরের সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। ভবিষ্যতে আরও বড় প্রজেক্টে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাই।’

ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও স্পষ্ট করে তুলে ধরেন শালিনী। তিনি বলেন, ‘শুধু বাণিজ্যিক ছবিতে নয়, গল্পভিত্তিক সিনেমায় কাজ করতে চাই। যেখানে চরিত্রের গভীরতা থাকবে, অভিনয়ের সুযোগ থাকবে। দর্শক যেন আমার চরিত্রগুলো মনে রাখেন—এটাই আমার লক্ষ্য।’

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘নিজের খোঁজ নেওয়ার গুরুত্ব আমি বুঝেছি। মানসিক স্বাস্থ্য একবার ঠিক করে ফেললেই শেষ নয়—এটা প্রতিদিনের চর্চার বিষয়। পাশে শক্ত সমর্থনব্যবস্থা থাকা খুব জরুরি।’

অভিনেত্রী না হলে কী করতেন—এমন প্রশ্নে শালিনী বলেন, ‘হয়তো একজন ডগ ওয়াকার হতাম। তবে সত্যি বলতে, আমি সব সময় অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নই দেখেছি। ভিন্ন চরিত্রের মধ্যে বাঁচার এই অভিজ্ঞতাই আমাকে শক্তি দেয়।’