৭৮তম মেট গালায় অভিষেক হয়েছে বলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা ও প্রযোজক করণ জোহরের। এই আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের একটি মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে ইতিহাস রচন করেছেন। খ্যাতনামা ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রার নকশা করা পোশাকে করণ তুলে ধরেছেন ভারতীয় চিত্রশিল্পী রাজা রবি বর্মার শিল্প–ঐতিহ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই লুক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তবে করণ এই অর্জনের কৃতিত্ব দিয়েছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানকে।

‘শাহরুখ না থাকলে আমি এখানে আসতাম না’—নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে আয়োজিত মেট গালায় বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করণ জোহর শাহরুখ খানের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ও দীর্ঘ বন্ধুত্ব নিয়ে কথা বলেন। গত বছর শাহরুখের মেট গালায় অভিষেকের পর এবার করণের অংশগ্রহণকে অনেকে ‘পূর্ণ বৃত্ত’ হিসেবে দেখছেন।

করণ বলেন, ‘আমার জন্য এটা খুব আবেগঘন মুহূর্ত। শাহরুখ খান আমার ক্যারিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমার প্রথম পাঁচটি ছবি তাঁর সঙ্গেই করেছি। সত্যি বলতে, তাঁর জন্যই আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। গত বছর তাঁর আসা আর এ বছর আমার আসা—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, জীবনের একটা পূর্ণ বৃত্ত যেন সম্পূর্ণ হলো।’

বলিউডের অন্যতম সফল জুটি করণ জোহর ও শাহরুখ খানের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। নির্মাতা ও অভিনেতা হিসেবে তারা একসঙ্গে একের পর এক ব্যবসাসফল ও দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। এই জুটির যাত্রা শুরু হয় ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ দিয়ে, যা ছিল করণের পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র। এরপর তারা একসঙ্গে করেছেন ‘কাভি খুশি কাভি গম’, ‘কাভি আলবিদা না কেহনা’ ও ‘মাই নেম ইজ খান’-এর মতো জনপ্রিয় ছবি। করণ প্রায়ই শাহরুখকে নিজের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন বলে উল্লেখ করেন এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁকে পরিবারের সদস্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

রাজা রবি বর্মার শিল্পে অনুপ্রাণিত লুক

মেট গালা ২০২৬-এ করণ জোহর হাজির হয়েছেন ‘ফ্রেমড ইন এটার্নিটি’ শিরোনামের একটি বিশেষ পোশাকে। মণীশ মালহোত্রার ডিজাইন করা এই পোশাকের মাধ্যমে ‘ফ্যাশন ইজ আর্ট’ ভাবনাকে তুলে ধরা হয়েছে। পাওয়ার-শোল্ডার ভিনটেজ জ্যাকেটের সঙ্গে প্রায় ছয় ফুট লম্বা হাতে আঁকা কেপ ছিল এই লুকের প্রধান আকর্ষণ। পোশাকটি তৈরি করতে ৮০ জনের বেশি কারিগরের প্রায় ৮৫ দিন সময় লেগেছে। স্টাইলিস্ট একা লাখানির তত্ত্বাবধানে তৈরি এই পোশাকে রাজা রবি বর্মার বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘লেডি উইথ দ্য পিচ’, ‘হংসা দময়ন্তী’, ‘কাদম্বরী’, ‘অর্জুন ও সুভদ্রা’ এবং ‘দেয়ার কামস পাপা’ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। হাতে আঁকা শিল্পকর্মের পাশাপাশি পোশাকে ছিল সূক্ষ্ম জারদৌসি কাজও।