দেশের ৭৪টি মেডিকেল কলেজ, জেলা, বিশেষায়িত ও জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মোট ১ হাজার ৩৭২টি।
শিশুদের পিআইসিইউ শয্যার হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া যায়নি।
নাটোরের সোহাগ কুমার আর বন্দনা রানীর ঘরে প্রথম সন্তান এসেছিল মাত্র ছয় মাস আগে। ছোট্ট গৌরী—যার কান্না, হাসি আর নড়াচড়ায় ভরে উঠেছিল পুরো ঘর। কিন্তু সেই ঘরই এখন নিঃশব্দ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ঢোকার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একসময় থেমে যায় গৌরীর শ্বাস। ১৮ এপ্রিল হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় শিশুটির।
গৌরীর বাবা সোহাগ কুমার ২০ এপ্রিল মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আইসিইউতে ভর্তির জন্য যখন সিরিয়াল পাওয়া গেল, ততক্ষণে আমার গৌরী আর নাই। আমি চেষ্টা করলাম, ডাক্তাররা চেষ্টা করলেন। কিন্তু আইসিইউতে যারা ভর্তি ছিল, তাদের সবার অবস্থাই খারাপ ছিল। সিরিয়াল তো আর ভাঙা যাবে না। সরকার যদি পারে আইসিইউর শয্যা বাড়াক।’
গৌরীর মতো অনেক শিশুর বাবা–মায়েরা চিকিৎসকের পরামর্শে যখন পিআইসিইউ শয্যার খোঁজে, তখন তাঁরা পাচ্ছেন সন্তানের মৃত্যুসংবাদ। পিআইসিইউর সংকট নতুন করে সামনে এসেছে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে। বিভিন্ন ঘটনা জানা যাচ্ছে, যেখানে শিশুদেরকে জরুরিভাবে পিআইসিইউতে নেওয়ার জন্য চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু শয্যা খালি পাওয়া যাচ্ছে না।
.জেলা হাসপাতাল, এমনকি বিভাগীয় হাসপাতালেও অনেক ক্ষেত্রে পিআইসিইউ নেই। সেখান থেকে হামে আক্রান্ত মুমূর্ষু অনেক শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও এখন পিআইসিইউ শয্যা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।.হামে আক্রান্ত শিশুরা পাঁচ ধরনের জটিলতার ঝুঁকিতে.
বড়দের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রকে বলা হয় আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। শিশুদের জন্য একই সেবার নাম পিআইসিইউ (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট)। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বড়দের ও ছোটদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের কিছু দিক দিয়ে ভিন্নতা রয়েছে।
কোভিড মহামারির সময় দেশে আইসিইউর সংকট বড় হয়ে উঠেছিল। তখন হাইকোর্টের এক আদেশে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ৭৩৩। পরিস্থিতির চাপে তখন আরও আইসিইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যে দেশে তখন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ১ হাজার ১৬৯টি আইসিইউ থাকার কথা বলা হয়।
বর্তমানে আইসিইউর সংখ্যা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দেশের ৭৪টি মেডিকেল কলেজ, জেলা, বিশেষায়িত ও জেনারেল হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৩৭২টি আইসিইউ শয্যার তথ্য পাওয়া যায়। তবে শিশুদের জন্য পিআইসিইউর আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যায়নি।
জেলা হাসপাতাল, এমনকি বিভাগীয় হাসপাতালেও অনেক ক্ষেত্রে পিআইসিইউ নেই। সেখান থেকে হামে আক্রান্ত মুমূর্ষু অনেক শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও এখন পিআইসিইউ শয্যা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
.স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৩৪ হাজার ৬৬২ জন, তার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হন ২৩ হাজার ৩৪৮ জন। ৪ হাজার ৮৫৬ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। হামে সংক্রমিত শিশুদের মধ্যে মারা গেছে ৪৭ জন, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২৬ জনের। মোট মৃত্যু ২৭৩ জনের।.
যেমন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিআইসিইউ নেই। এই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো সাপোর্ট প্রয়োজন হলে সে ক্ষেত্রে আমরা রোগীকে ঢাকায় স্থানান্তর করি।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও একই অবস্থা। এই হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ন ম তানভীর চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটা দেওয়ার সুযোগ এখানে নেই। এ কারণে বেশির ভাগ রোগীকে ঢাকায় রেফার করতে হয়।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৩৪ হাজার ৬৬২ জন, তার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হন ২৩ হাজার ৩৪৮ জন। ৪ হাজার ৮৫৬ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। হামে সংক্রমিত শিশুদের মধ্যে মারা গেছে ৪৭ জন, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২৬ জনের। মোট মৃত্যু ২৭৩ জনের।
.দেশের হাসপাতালগুলোতে পিআইসিইউর সংকট, দক্ষ জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি আছে। জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন সেবা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান, পরিচালক, শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মাতুয়াইল, ঢাকা
হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে
সিরাজগঞ্জের মাহফুজুর রহমান ও নীলা আক্তার দম্পতির মেয়ের নাম মালিহা। বয়স ছিল ১১ মাসের কাছাকাছি। প্রথম জন্মদিনের আগেই হামের উপসর্গ আর নিউমোনিয়ায় জটিল হয়ে ওঠে তার জীবন।
পাবনার উল্লাপাড়া থেকে ঢাকার আশুলিয়া, তারপর রাজধানীর একের পর এক হাসপাতালে পিআইসিইউর খোঁজে ২০ দিন ধরে ছুটে বেড়িয়েছেন মাহফুজুর। শেষ আশ্রয় ছিল শিশু হাসপাতালের পিআইসিইউ।
মাহফুজুর রহমান সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার বিদ্যুৎমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। ১৯ এপ্রিল তিনি মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ২০ দিন ধরে উল্লাপাড়া, আশুলিয়া, রাজধানীর এম আর খান শিশু হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (শিশু হাসপাতাল নামে পরিচিত) পিআইসিইউ ঘুরে ১২ এপ্রিল তাঁর মেয়ে মালিহার মৃত্যু হয়।
মাহফুজুর রহমান বলেন, চিকিৎসায় আড়াই লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। টাকার জোগাড়ে স্ত্রীর ১০ আনার স্বর্ণালংকার বিক্রি, ধারদেনা ও স্বজনদের সহায়তা নিয়েছেন।
.হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শিশুরা আক্রান্ত বেশি হচ্ছে বলে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ বা পিআইসিইউ বেশি প্রয়োজন দেখছেন চিকিৎসকেরা।.
মেয়ের মৃত্যু, হাসপাতাল ও খরচের চাপে হতাশ হয়ে পড়েছেন মাহফুজুর। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার পাশাপাশি আইসিইউ-পিআইসিইউতে ভর্তি থাকাকালে প্রায় সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। পরে চিকিৎসকেরা ফোন দিয়ে বলেন, “বাচ্চাকে দেখে যান”। ততক্ষণে মালিহার মৃত্যু হয়েছে।’
মাদারীপুরের ১০ মাস বয়সী সোহা মণি হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০ এপ্রিল রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আরসিইউতে (শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) মারা যায়। এর আগে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ চারটি হাসপাতাল ঘুরে আসতে হয় তাকে।
সোহা মণির চাচা রাশেদুল ইসলাম বলেন, মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সোহা ভর্তি ছিল ৩০ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। একসময় সেখানে আইসিইউ শয্যাও পাওয়া যায়; কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে এ হাসপাতাল থেকেও সোহাকে অন্য হাসপাতালে নিতে বলা হয়। কারণ, ওই হাসপাতালের আইসিইউতে ছয় বছরের কম বয়সীদের জীবন রক্ষাকারী কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা (ভেন্টিলেটর) নেই।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) চিকিৎসক শ্রীবাস পাল হাসপাতালটির আইসিইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এই হাসপাতালে বর্তমানে সীমিত আইসিইউ ও এইচডিইউ শয্যায় হামের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
.বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে খরচ অনেক বেশি। স্বল্প আয়ের পরিবারের পক্ষে সেখানকার খরচ বহন করা সম্ভব হয় না।.হাম মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার.
এই হাসপাতালের আইসিইউয়ে (বড়দের) সাতটি শয্যা আছে। এইচডিইউ বা হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে শয্যা পাঁচটি। বর্তমানে হামের শিশুদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব জায়গায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আবার আইসিইউ পেলেও অর্থাভাবে সেখানে না রাখতে পেরে সন্তান হারানোর ঘটনাও রয়েছে। এ কারণে থেমে যায় আট মাস বয়সী মো. নোমান ফালাকের জীবন। ১৩ এপ্রিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। এই শিশুটি গত ২৫ মার্চ এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের পিআইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু দুই দিনেই যাতায়াতসহ ৫০ হাজার টাকা খরচ হলে মুদিদোকানি বাবা মো. সাকিবুর রহমান ছেলেকে কুষ্টিয়ায় ফিরিয়ে আনেন।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিআইসিইউ না থাকায় প্লাস্টিকের বক্স ছিদ্র করে অক্সিজেন সরবরাহের নল যুক্ত ‘হেডবক্স’ তৈরি করে চিকিৎসা দেওয়া হয় ফালাককে। চিকিৎসকেরা স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত হেড বক্স ব্যবস্থাকে ‘মন্দের ভালো’ বলে আসছেন।
.জেলা হাসপাতালে পিআইসিইউ সেবা থাকা দরকার। এসব না থাকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত সংকট।আবু জামিল ফয়সাল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
হাম কত দিন থাকতে পারে
হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শিশুরা আক্রান্ত বেশি হচ্ছে বলে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ বা পিআইসিইউ বেশি প্রয়োজন দেখছেন চিকিৎসকেরা।
ঢাকার মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের কনসালট্যান্ট অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, নবজাতক হাসপাতালে হামের জন্য ৩৮ শয্যার পিআইসিইউ এবং পথশিশুদের জন্য ৫ শয্যার বিনা মূল্যের পিআইসিইউ আছে। সেখানে এ পর্যন্ত ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে শিশু-মাতৃ হাসপাতালে ১৯০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। সেখানে রয়েছে ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ড ও ৩ শয্যার পিআইসিইউ।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে পিআইসিইউর সংকট, দক্ষ জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি আছে। জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন সেবা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
.দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিভাগীয় ও জেলা হাসপাতালগুলো বড় ভূমিকা রাখলেও সেখানে জটিল পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়। আইসিইউ, পিআইসিইউ, সরঞ্জাম, চিকিৎসক ইত্যাদি সংকটে রোগীকে পাঠানো হয় ঢাকায়।.
মুক্তকণ্ঠতে গত ২৮ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক চিত্র নিয়ে ‘ছড়িয়ে পড়েছে হাম, আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা চার শিশুর তিনজনই মারা গেল’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই হাসপাতালে হামের শিশুদের জন্য আইসিইউ শয্যা মাত্র ১২টি। অথচ অপেক্ষমাণ থাকে ৩০ থেকে ৫০ শিশু। মার্চ মাসেই সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ১২ শিশু; আইসিইউতে নেওয়ার পরও বাঁচানো যায়নি ৯ জনকে।
বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে খরচ অনেক বেশি। স্বল্প আয়ের পরিবারের পক্ষে সেখানকার খরচ বহন করা সম্ভব হয় না।
যশোরের কুইন্স হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের এনআইসিইউর ইনচার্জ এবং রাজধানীর আল মানার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পিআইসিইউর মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক মো. মুশফিকুর রহমান। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সরকারের উদ্যোগে ৬৪ জেলায় পিআইসিইউ থাকা জরুরি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিকিৎসা ব্যয়বহুল হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তা সম্ভব।
.বিভাগীয়, জেলা হাসপাতালে কেন থাকবে না
দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিভাগীয় ও জেলা হাসপাতালগুলো বড় ভূমিকা রাখলেও সেখানে জটিল পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়। আইসিইউ, পিআইসিইউ, সরঞ্জাম, চিকিৎসক ইত্যাদি সংকটে রোগীকে পাঠানো হয় ঢাকায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জেলা হাসপাতালে পিআইসিইউ সেবা থাকা দরকার। এসব না থাকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত সংকট। দেখা যায়, অনেক হাসপাতালে আইসিইউ আছে, কিন্তু তা চালাতে দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের কথা বলছি। উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থা থাকতে হয়।’
আবু জামিল ফয়সাল বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে শুরুতেই চিকিৎসা দিতে হবে। প্রয়োজন হলে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে। পিআইসিইউ না থাকলে বিকল্প উপায়গুলোর ব্যবহার করা দরকার।






