পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, বন্দী হাতিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য থাইল্যান্ডের উদাহরণ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে শেখার আছে। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের বন্দী হাতিদের জন্য কিছু করতে পারি।’

সোমবার রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। থাইল্যান্ডের সাইংদুয়াং লেক চাইলার্টের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। চাইলার্ট বন্দী হাতিকে শিকলমুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন।

‘লাভ অ্যান্ড ব্যানানাস: অ্যান এলিফ্যান্ট স্টোরি’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটি পিপল ফর অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ট্রি প্রটেকশন মুভমেন্ট আয়োজন করে। চাইলার্টের কাজকে বিশাল উদাহরণ বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার ধারণা ছিল না। বাংলাদেশে হাতির চিত্র খুবই হতাশাজনক। খুব দুঃখ পাই। শত শত মানুষের সামনে হাতি হত্যা করা হয়, অথচ কেউ রক্ষায় এগিয়ে আসে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার নতুন। দুই দিন আগে বন ও বন্য প্রাণী রক্ষায় আইন পাস হয়েছে। থাইল্যান্ডের লেক চাইলার্টের কাজ আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে থাই রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাউয়াদি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের হাতি সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় থাইল্যান্ড সহযোগিতা করবে। পাচার হওয়া হাতি এবং সার্কাস ও পর্যটকদের বিনোদনে ব্যবহৃত হাতি উদ্ধার করে স্বাভাবিক জীবন দিতে চাইলার্ট ‘সেভ দ্য এলিফ্যান্ট ফাউন্ডেশন’ ও ‘এলিফ্যান্ট নেচার পার্ক’ প্রতিষ্ঠা করেন।

চাইলার্ট বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হাতির প্রতি যে নিষ্ঠুরতা দেখেছি, তা বন্ধ করতে ৩০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। থাইল্যান্ডে একসময় বিলবোর্ডে হাতির সার্কাসের বিজ্ঞাপন প্রচার হতো। এখন সেগুলো বন্ধ হয়েছে।’ সরকারের সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশেও বন্দী হাতি মুক্তির কাজ করতে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘সরকারের সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশেও আমরা এ কাজ করতে চাই।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ট্রি প্রটেকশন মুভমেন্টের সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব। অনুষ্ঠানে গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্দী হাতিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর প্রচেষ্টার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেন প্রাণী অধিকারকর্মী রাকিবুল হক এমিল।