২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণের দিন রমনা বটমূলে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় রমনা থানায় পুলিশ হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করে।
দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলার ২০১৪ সালের ২৩ জুন রায় ঘোষিত হয়। কিন্তু বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার বিচার ২৫ বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-এ পাঠানো হয়। এখন এই আদালতে মামলাটি আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে।
গত ৩১ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষের শুনানির তারিখ ছিল। কিন্তু আসামিরা আদালতে না হাজির হওয়ায় আদালত ৯ জুলাই পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের কৌঁসুলি মাহফুজ হাসান বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁরা দেশের বিভিন্ন জেলায় কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁদের উপস্থিত না হওয়ার কারণে মামলার শুনানি এগোচ্ছে না। আশা করি, মামলাটির বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে এবং ভুক্তভোগীদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।’
ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘হত্যা মামলায় রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ৪৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। এখন বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া যায় কি না—সেগুলো নিয়ে অতি তাড়াতাড়ি আমরা মামলাটি শেষ করব। আশা করছি, আগামী বৈশাখের আগেই একটি ফল পাওয়া যাবে।’
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে এই বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। রমনা থানায় মামলার পর ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে সিআইডি আদালতে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন রায় দেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।






