হলিউডের আলোচিত জুটি বেন অ্যাফ্লেক ও জেনিফার লোপেজের সম্পর্কের গল্প এখনো শেষ হয়নি। বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলাকালীনই বেভারলি হিলসের একটি বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সেই বাড়িতে নিজের পুরো মালিকানার অংশ ছেড়ে দিয়েছেন বেন অ্যাফ্লেক। এখন বাড়িটি সম্পূর্ণ জেনিফার লোপেজের দখলে। ২০২৩ সালের মে মাসে দুজনে মিলে এই বাড়ি কিনেছিলেন। প্রথমে ৬৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির জন্য তুললেও পরে দাম নামিয়ে ৫৮ মিলিয়ন করা হয়। কিন্তু শেষমেশ বিক্রি না করে অ্যাফ্লেক নিজের অংশ বিনা মূল্যে লোপেজকে দিয়ে দেন। এটি তাঁদের সম্পত্তি সমঝোতায় বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে আর্থিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি অ্যাফ্লেক নিজের একটি এআই কোম্পানি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছেন, যা সম্ভবত তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে, লোপেজ এখন ওই বাড়িতেই থাকছেন এবং আরেকটি সম্পত্তির সংস্কারকাজে ব্যস্ত।
বিচ্ছেদের পর দুজনের জীবন আলাদা পথে এগোচ্ছে। অ্যাফ্লেক লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের নতুন বাড়িতে উঠে গেছেন। লোপেজ নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, বিশেষ করে গায়ক মার্ক অ্যান্টনির সঙ্গে তাঁর যমজ সন্তানদের।
এই বিচ্ছেদ শুধু আর্থিক বা আইনি নয়, মানসিক প্রভাবও গভীর। ২০২৫ সালের মার্চে ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে লোপেজ বলেন, “আমি এক বছর কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলাম। বাড়িতে বসে নিজের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি—কোনো কাজ নয়, কোনো নতুন সম্পর্ক নয়। শুধু বুঝতে চেয়েছি, কী ঘটেছিল।”
আরও বলেন, “একটা সময় নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করতাম, আমার কী হয়েছে? কারণ, আমি আর কাউকে দায়ী করতে পারছিলাম না।”
২০০২ সালে প্রথম পরিচয়, তারপর প্রেম, ২০০৪ সালে বিচ্ছেদ। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালে আবার এক হন এবং বিয়ে করেন। কিন্তু দ্বিতীয় অধ্যায়টিও স্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালের শুরুতে লোপেজ বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন, তা তাঁদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীর দিনেই।
টিএমজেড অবলম্বনে






