যাত্রাপালার প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। প্রিন্সেস চরিত্রে অভিনয়কারী তাঁকে দেখা যাবে ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এই ছবিটি আর্টকোর বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে।
পরিচালক আসিফ ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘আমার নতুন চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আর্টকোর বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ, উচ্ছ্বসিত এবং এই যাত্রা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।’ তিনি ছবির পেছনের টিম, বিশেষ করে মহাশংকর অপেরা ও প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, ছবিটি যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প তুলে ধরে। এখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকে প্রতিফলিত করাই এই সিনেমার মূল বিষয়।
প্রিন্সেস চরিত্রে অভিনয় নিয়ে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি। পাশাপাশি শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়ের ধরন। ‘প্রিন্সেস রোজি চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। আমি চরিত্রটিকে ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি।
মস্কোর মতো মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে নিজের কাজ দেখানোর সুযোগ পেয়ে ভাবনা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার শিল্পকর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। মস্কোর মতো মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে আমার সিনেমা নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি সত্যিই ভীষণ ভালো লাগার।’
পরিচালক আসিফ ইসলাম জানান, শৈশব থেকেই যাত্রার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। সেই অভিজ্ঞতা ও সময়ের পরিবর্তনে যাত্রার রূপান্তরই তাঁকে এই ছবি নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুরে যাত্রার সেট তৈরি করে সিনেমার শুটিং শেষ হয়। এতে ভাবনা ছাড়া অধিকাংশ অভিনয়শিল্পী প্রকৃত যাত্রাশিল্পী ছিলেন।
উল্লেখ্য, আসিফ ইসলামের আগের ছবি ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড জিতেছিল। এবার ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’-এর সঙ্গে তিনি আবার সেই মঞ্চে ফিরছেন—আর সঙ্গে ‘প্রিন্সেস’ ভাবনা।






