বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সম্প্রতি দেশে সহিংসতা, মব সন্ত্রাস এবং প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব ঘটনাকে একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে চিহ্নিত করে তারা বলেছে, এগুলো অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।

আজ রোববার মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা এবং গত শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের ওপর সমকামী অভিযোগে আক্রমণ, সংসদে নারী সদস্যদের প্রতি অবমাননাকর ও অসাংবিধানিক বক্তব্য এবং গণমামলা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছে। এটি একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।

এছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে নারী রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের প্রতি রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার মতোই অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মহিলা পরিষদ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে মন্তব্য করে মহিলা পরিষদ বলেছে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে বিগত সময়ে যেসব মব সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, গণমাধ্যম ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা, দেশজুড়ে গুপ্ত খুন, নারীর প্রতি সহিংসতা, বিভিন্ন রকম ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার, সাইবার বুলিংসহ যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনোটির বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে।

মহিলা পরিষদ মনে করে, নারী–বিদ্বেষ, ঘৃণা প্রচার, ববর্রতা, উগ্রতা এবং আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা একটি সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্রে চলতে পারে না। ভিন্নমত, পরিচয় বা জীবনধারার কারণে মানুষের ওপর হামলা চালানো সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী, যা রোধ করা গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব।

প্রতিটি ঘটনার বিচার চেয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উন্নয়নে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি ঘটনায় জড়িত দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

মহিলা পরিষদ আরও বলেছে, প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ করে জনগণের নিরাপত্তা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার, প্রশাসন, সব রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।