ফুটবল কোচের চাকরিতে অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক। সাফল্য এলে সম্মান, ব্যর্থতায় বিদায়। এই কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়েছেন আলফাজ আহমেদ। গত মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বে ২৩ বছরের খরা ভেঙে লিগ শিরোপা জিতেছিল মোহামেডান। ২০০৭ সালে শুরু হওয়া পেশাদার লিগে ক্লাবের প্রথম শিরোপা। কিন্তু আজ সন্ধ্যায়ই ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁকে বরখাস্ত করেছে। আজ বিকেলেও তিনি ক্লাব মাঠে দলকে অনুশীলন করিয়েছিলেন।

ফেডারেশন কাপে মোহামেডান এখনো গ্রুপ থেকে উঠে পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চলমান বাংলাদেশ লিগে দলের পারফরম্যান্স একদমই খারাপ। ১২ ম্যাচে মাত্র ২ জয় করে ১১ পয়েন্ট নিয়ে ১০ দলের টেবিলে ৭ম স্থানে রয়েছে সাদাকালোরা। জয় দুটি হয়েছে আবাহনী ও পিডব্লিউডির বিরুদ্ধে। সবশেষ গত শুক্রবার কুমিল্লায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে ফিরতি লেগে হারই মূলত এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্লাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, “মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ফুটবল দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক যা ক্লাবকে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছে। ফুটবল দলের এমন ফলাফলে ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তা ও মোহামেডানের অগণিত সমর্থকরা মর্মাহত ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।” এছাড়া বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক সাফল্য ও উন্নয়নের দিকে ধাবিত হওয়ার বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ গভীরভাবে বিবেচনা করে আলফাজ আহমেদকে প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য ক্লাব অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিয়েছে। সহকারী কোচ আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টিম লিডার হিসেবে আমিরুল ইসলাম বাবুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অতঃপর বিদায়ে আলফাজ আহমেদ কিছুটা অবাক হলেও পেশাদার মনোভাবে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এমনটা ঘটবে আমি আঁচ করতে পারিনি। আমি আজও অনুশীলন করিয়েছি দলকে। সন্ধ্যায় ক্লাবে থাকতে থাকতে আভাস পাচ্ছিলাম এমন কিছু, এরপর বাসায় এসে চিঠি পেয়েছি।’

দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, ‘দলের ফল খারাপ, তাই আমাকে সরিয়ে দিয়েছে। মোহামেডান বলে নয়, যেকোনো ক্লাব হলেও তাই করত। ক্লাব চাইবেই ভালো ফল। ফলে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।’

২০২২-২৩ মৌসুমে লিগের মাঝপথে শফিকুল ইসলাম মানিককে সরিয়ে আলফাজকে প্রধান কোচ করা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় বাজেট না পেলেও তিনি সফল হয়েছেন। ১টি লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ, ১টি ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ। এছাড়া রানার্সআপ লিগ (১টি), ফেডারেশন কাপ (১টি), স্বাধীনতা কাপ (১টি) এবং চ্যালেঞ্জ কাপ (২টি)।

মোহামেডানের সাবেক খেলোয়াড়, অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে তিনি সাফল্য দেখিয়েছেন। দেশের ফুটবলে এমন ঘটনা বিরল। কিন্তু এবার সেই ক্লাব থেকেই মৌসুমের মাঝপথে তাঁকে বিদায় নিতে হচ্ছে।