টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাস্তার পাশের ঝোপ থেকে জীবিত উদ্ধার নবজাতক কন্যাশিশুর বিকল্প পরিচর্যায় আগ্রহী ব্যক্তিদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। আগ্রহীরা ১৬ এপ্রিলের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে আবেদন জমা দিতে পারবেন। আজ রোববার দুপুরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ফেসবুকে এসব বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

গতকাল শনিবার ভোরে সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বারোমন্ডলের চালা এলাকায় রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক বাসিন্দা রাস্তার পাশ থেকে কান্নার শব্দ শোনেন। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে ঝোপঝাড়ের ভিতরে নবজাতক কন্যাশিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। শুধু একটি পাতলা কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। রাতভর খোলা পরিবেশে পড়ে থাকায় তার শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডার সমস্যা দেখা দেয়। উদ্ধারের পর প্রথমে সখীপুর মা ও শিশু ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জাপুরের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ধীরে ধীরে নবজাতকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আজ সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে নবজাতককে সাধারণ বিছানায় নেওয়া হয়েছে। এখন অক্সিজেন লাগছে না। শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকেরা চেষ্টা করছেন।” শিশুটির সুস্থতা কামনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবার কাছে দোয়া চেয়েছে।

সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, “আমার ইউনিয়নের একটি এলাকার নিঃসন্তান দম্পতি ইব্রাহিম ও নার্গিস বর্তমানে হাসপাতালে শিশুটির পাশে রয়েছেন। তাঁরা শিশুটিকে লালন–পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”

সখীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ জানান, রাস্তার পাশ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতকের বিকল্প পরিচর্যার জন্য শিশু আইন ২০১৩–এর ৮৪ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিদের আবেদন করতে বলা হয়েছে।

সমাজসেবা কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নাম–পরিচয় ও ঠিকানাবিহীন এক দিন বয়সী কন্যাশিশুটি বর্তমানে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে রয়েছে। বিকল্প পরিচর্যার জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের আবেদনপত্রের সঙ্গে স্বঘোষিত আর্থসামাজিক মূল্যায়ন ফরম জমা দিতে হবে। এই ফরম টাঙ্গাইল জেলার সব সমাজসেবা কার্যালয়ে পাওয়া যাবে।