বলিউডে দীর্ঘদিন পর এমন একটি ছবি এসেছে, যা শুধু বক্স অফিসেই নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসায়িক কৌশলকেও নতুনভাবে চিন্তা করাচ্ছে। রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এই আলোচিত ছবি। পরিচালক আদিত্য ধরের এই স্পাই–অ্যাকশন সিকুয়েল মুক্তির তিন সপ্তাহ অতিক্রম করেও প্রেক্ষাগৃহে দাপট জানাচ্ছে। এর সাফল্য এখন ওটিটি মুক্তির পরিকল্পনাকেও প্রভাবিত করছে।

বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর’–ঝড়
আয়ের সংখ্যা অবাক করার মতো। মাত্র ২১ দিনে ভারতে ১ হাজার ৪১ কোটি ২৭ লাখ রুপি নেট আয়—বলিউডে এমন ঘটনা বিরল। বিশ্বজুড়ে আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ কোটি ৬৭ লাখ রুপি। দেশে গ্রস আয় ১ হাজার ২৪৬ কোটি ছাড়িয়েছে, বিদেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য অংক এসেছে।

এই অসাধারণ পারফরম্যান্স ছবিটিকে সর্বকালের সেরা আয়কারীদের তালিকায় তুলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে—দক্ষিণি সুপারস্টার আল্লু অর্জুন–এর ‘পুষ্পা ২’–এর রেকর্ড কি ভাঙতে পারবে ‘ধুরন্ধর ২’?

‘পুষ্পা ২’–এর রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা
‘পুষ্পা ২’ ৬৪ দিনে যে অঙ্কে পৌঁছেছিল, ‘ধুরন্ধর ২’ অনেক কম সময়ে সেখানে পৌঁছে গেছে। ফলে ট্রেড বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রেকর্ড ভাঙা এখন সময়ের প্রশ্ন। এরপর আরও বড় লক্ষ্য আমির খান–এর ‘দঙ্গল’। ২০১৬ সালে মুক্ত এই ছবি বিশ্বজুড়ে ২ হাজার কোটির বেশি আয় করে এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘ধুরন্ধর ২’ সেই মাইলফলক ছুঁতে পারবে কিনা, তাই নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

কেন অবিরাম সাফল্য?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, একাধিক কারণ এর পেছনে কাজ করছে। রণবীর সিংয়ের তারকাখ্যাতি ও চরিত্রে রূপান্তর, ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের সাফল্য থেকে প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন ও নির্মাণ—এসব মিলে এই ফল। সবচেয়ে বড় হলো দর্শকের মুখে মুখে প্রচার। মুক্তির পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আয়কে প্রতিদিন বাড়াচ্ছে। মাল্টিপ্লেক্সের পাশাপাশি সিঙ্গেল স্ক্রিনেও ধারাবাহিক ব্যবসা দেখিয়ে ছবিটি সব শ্রেণির দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

ওটিটিতে কবে মুক্তি?
সবার প্রশ্ন এখন এটাই—ওটিটিতে কবে দেখা যাবে? ছবির স্ট্রিমিং অধিকার জিও হটস্টারের কাছে। প্রথম কিস্তি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেলেও এবার প্ল্যাটফর্ম বদলেছে। তবে দ্রুত ডিজিটাল মুক্তির সম্ভাবনা কম। নির্মাতারা থিয়েট্রিক্যাল উইন্ডোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। সাধারণত বড় ছবি ৬–৮ সপ্তাহ পর ওটিটিতে আসে, কিন্তু ‘ধুরন্ধর ২’–এর ক্ষেত্রে ভিন্ন। ছবি এখনও হলে বিপুল আয় করছে, তাই ওটিটি মুক্তি দিলে আয় কমার আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা রয়েছে, গ্লোবাল কালেকশন বাড়ানোর সুযোগ ছাড়তে চান না নির্মাতারা। সব মিলিয়ে ওটিটি মুক্তি ব্যবসায়িক হিসাবের ওপর নির্ভরশীল।

আইপিএল—মূল প্রভাবকারী
ওটিটি মুক্তির সময় নির্ধারণে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬ বড় ভূমিকা পালন করছে। জিও হটস্টারের প্রধান আকর্ষণ এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। আইপিএল চলাকালীন বড় ছবি মুক্তি দিলে দর্শকের মনোযোগ ভাগ হয়, তাই এ সময় এড়ানো স্বাভাবিক কৌশল। ইন্ডাস্ট্রি সূত্র বলছে, সব ঠিক থাকলে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওটিটি প্রিমিয়ার হতে পারে। তবে নিশ্চিত নয়, কারণ তখনও বক্স অফিস শক্তিশালী থাকলে মুক্তি পিছিয়ে যেতে পারে।