দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা মিউচুয়াল ফান্ড, সিরামিক ও ভ্রমণ খাত থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এসব খাতের লেনদেন কমে যায়। অন্যদিকে, প্রকৌশল, সাধারণ বিমা, ট্যানারি ও বিবিধ খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে, যার ফলে এসব খাতের লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকার বাজারের সাপ্তাহিক তথ্য পর্যালোচনায় এই প্রবণতা উঠে এসেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তরের প্রবণতা গত সপ্তাহে বেড়েছে। তবে বিনিয়োগ বাড়া খাতগুলোতে এটি মূলত হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানিতে সীমাবদ্ধ। শেয়ারবাজারে এমন খাতান্তর স্বাভাবিক, বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায়। কিন্তু লেনদেন নির্দিষ্ট কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হলে ঝুঁকি বাড়ে, তাই স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মিউচুয়াল ফান্ডের দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৩৯ শতাংশ কমে ১৬ কোটি টাকায় নামে। সিরামিক খাতের লেনদেন ৫ কোটি টাকা কমে, ভ্রমণ খাতের ৩ কোটি টাকা কমে ৬ কোটি টাকায় পৌঁছে। বিপরীতে, প্রকৌশল খাতের দৈনিক গড় লেনদেন ১৩ কোটি টাকা বেড়ে ৯৩ কোটি টাকা হয়। সাধারণ বিমা খাতে ১০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ কোটি, ট্যানারি খাতে ৩ কোটি বেড়ে ৯ কোটি এবং বিবিধ খাতে ১৪ কোটি টাকা বাড়ে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আস্থার সংকটের খাত থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় হাতেগোনা কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোম্পানি হলো বিবিধ খাতের খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ওষুধ খাতের একমি পেস্টিসাইডস, খাদ্য খাতের লাভেলো, সেবা খাতের সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, প্রকৌশল খাতের ডমিনেজ স্টিল, ওষুধ খাতের টেকনো ড্রাগস ইত্যাদি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, বড় মূলধনি ও ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে স্থবিরতা থাকায় দ্রুত মুনাফার আশায় বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক স্বল্প-মাঝারি মানের কোম্পানির দিকে ঝুঁকেছেন। খাতভিত্তিক বিনিয়োগে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভালো মৌলভিত্তির বড় কোম্পানির শেয়ার কম দামে রয়েছে, তাদের পিই রেশিও সার্বিক বাজারের নিচে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ বিশেষ করে ব্যাংক ও ওষুধ খাতে। গত সপ্তাহে প্রাইম ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রেকর্ড মুনাফা ও ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিসের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ মনে করেন, এ বছর ব্যাংক খাত লেনদেনে নেতৃত্ব দেবে।
গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে পৌঁছে। সূচক বাড়লেও বেশিরভাগ শেয়ারের দাম পড়ে, কয়েকটি বড় কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি সূচক টেনে তোলে, সার্বিকভাবে আস্থার সংকট ছিল।






