দেশে ফলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম নিশ্চিত করতে আমদানি নীতিতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ফল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা যাবে। ফলে আমদানিকারকদের আর শতভাগ নগদ মার্জিন বা পুরো টাকা আগেভাগে জমা দিতে হবে না। আজ রোববার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা জারি করেছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন ডলারের চাহিদা কমানো এবং শুল্ক ফাঁকি রোধ করতে দুই বছর আগে ফল আমদানিতে শতভাগ মার্জিন জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই নিয়মের ফলে বাজারে বিদেশি ফলের দাম বৃদ্ধি পায় এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই কঠোর শর্ত তুলে দিয়ে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে লেনদেনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, "২০২৪ সালের সেপ্টেম্বের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অধিকতর সুসংহত রাখায় জোর দেওয়া হয়। এ জন্য বিলাসজাতীয় পণ্য এবং অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত আমদানি বিকল্প পণ্যগুলোর আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব পণ্যের মধ্যে ফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।"

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, "জনসাধারণের, বিশেষ করে শিশু, রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়ের নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় ফলকে একটি অপরিহার্য পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার ও লেনদেনে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় ফল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিনের প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশে জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিচাহিদা পূরণের বিষয়টি বিবেচনা করে আমদানি সহজীকরণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিতে ফল আমদানির ঋণপত্র খোলায় নগদ মার্জিনের হার ১০০ ভাগের পরিবর্তে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে তা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা এখন বাকিতে ফল আমদানি করতে পারবেন এবং পণ্য বিক্রির পর ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন। এতে বাজারে ফলের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে, যেখানে পুরোনো ও বিশ্বস্ত গ্রাহকরা বেশি সুবিধা পেতে পারেন।

অন্যদিকে, ডলারের বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি এবং প্রবাসী আয় কমে আসায় মাঝেমধ্যে ডলারের দাম বাড়ছে। তবে চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ১৪৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ১০৫ কোটি ডলারের চেয়ে ৪২.২ শতাংশ বেশি। গত ১ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪৩৫ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩.৪ শতাংশ বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭১১ কোটি ডলার। তবে আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম৬ মান অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ২৩০ কোটি ডলার।