এখন থেকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করেই আইডিএলসি ফিন্যান্সের এফডিআর বা মেয়াদি আমানত খোলা যাবে। দীর্ঘদিনের জটিল কাগজপত্র এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখায় যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই সেবা পাওয়া যাবে।

আইডিএলসি ফিন্যান্স ও বিকাশ যৌথভাবে এই ডিজিটাল এফডিআর সেবা চালু করেছে। এর ফলে গ্রাহকরা আর আলাদা করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে না গিয়েই মুঠোফোনের মাধ্যমে সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। বর্তমানে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত এফডিআর খোলার সুযোগ রয়েছে। সঞ্চয়ের মেয়াদ হবে ছয় মাস অথবা এক বছর।

কেবল এফডিআর খোলা নয়, সঞ্চয় পরবর্তী কার্যক্রমগুলোও হবে ডিজিটাল। নির্দিষ্ট সময় অন্তর এফডিআরের মুনাফার টাকা সরাসরি গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। এছাড়া অ্যাপ থেকেই ডিজিটাল রসিদ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা যাবে এবং মেয়াদ শেষে এফডিআর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের সুবিধাও থাকছে।

সম্প্রতি আইডিএলসি ফিন্যান্সের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জামাল উদ্দিন এবং বিকাশের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ এই নতুন সেবার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইডিএলসি ফিন্যান্সের সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জামাল উদ্দিন বলেন, "বিকাশের মাধ্যমে ডিপিএস সেবা চালুর পর এবার মেয়াদি আমানত যুক্ত করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে সহজে সঞ্চয়ের সুযোগ পৌঁছে যাবে এবং প্রথাগত আর্থিক সেবার আওতার বাইরে থাকা মানুষকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

বিকাশের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ বলেন, "আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সঞ্চয় সেবা মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার কাজ করছে বিকাশ।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এফডিআর সেবার মাধ্যমে মানুষ জমানো টাকা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন এবং তাদের ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা আরও ফলপ্রসূ হবে।

উল্লেখ্য, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আইডিএলসি ফিন্যান্সের সাপ্তাহিক ও মাসিক ডিপিএস সেবা পেয়ে আসছেন গ্রাহকেরা। এবার সেই সেবার তালিকায় যুক্ত হলো এককালীন সঞ্চয়ের এই সুযোগ।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই ব্যবহার মানুষের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে সঞ্চয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, সময় ও আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হতো, এখন তা হাতের মুঠোয় চলে আসায় প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয় আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।