সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আজ রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে সূচকের এই পতনের বিপরীতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিএসইর হিসাব অনুযায়ী, আজ দিন শেষে লেনদেনের মোট পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী দিনের চেয়ে ২০৫ কোটি টাকা বা ২২ শতাংশ বেশি। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, লেনদেনের এই বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ডিএসইর তথ্যমতে, আজকের মোট লেনদেনের প্রায় ৯১ শতাংশই করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল প্রায় ৬ শতাংশ, ডিলারদের অংশ প্রায় দেড় শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল প্রায় ১ শতাংশ।
ডিএসইর তথ্যে আরও দেখা গেছে, ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এদিন শেয়ার কেনার তুলনায় বিক্রি করেছেন কম। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ডিলার এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রির পরিমাণ বেশি ছিল।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, সূচকের এই পতনে বড় প্রভাব ফেলেছে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো। বিশেষ করে ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে ডিএসইএক্স সূচক ১৩ পয়েন্ট কমেছে, যা মোট পতনের অর্ধেকের বেশি। এই ১০টি কোম্পানি হলো— শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, জেএমআই হসপিটাল, ডমিনেজ স্টিল, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, এমএল ডায়িং ও ফার কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ।
সামগ্রিক দরপতনের মাঝেও বিমা খাতের শেয়ারের ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। এদিন মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৭টিই ছিল বিমা খাতের। বিমা খাতের লেনদেন হওয়া ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৩৪টির দাম বেড়েছে, ২১টির কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি শেয়ারের বিপরীতে ঋণসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে, যা বর্তমানে গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন এই নীতিমালায় বিমার শেয়ারে ঋণসুবিধার বিষয় পুনঃসমন্বয় করা হয়েছে বলে খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিমা খাতের প্রতি বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।