গত ১৭ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান অভিনেতা শামস সুমন। সেই প্রিয় সহকর্মীকে স্মরণে একত্রিত হন অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা। স্মরণসভায় উঠে আসে প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি অভিনয়শিল্পীরা বলেন মানবিক গুণসম্পন্ন শামস সুমনের কথা। কেউ কেউ মনে করেন, অভিনেতার বিদায় শূন্যতা তৈরি করেছে।

‘প্রিয় বন্ধু শামস সুমন স্মৃতিতে অম্লান’ নামক এই আয়োজনে তাঁকে স্মরণ করে অভিনেতা তৌকীর আহমেদ বলেন, “সুমনের মতো মানুষ খুব বেশি নাই আমাদের মধ্যে। সে আমার সিনেমা ও নাটকেও অভিনয় করে। আমরা অসংখ্যবার কাজ করেছি। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে লক্ষ করি, আমাদের অনেকের চেয়েই তার যোগ্যতা কম নয়—বেশি।” স্কুলজীবনে রাজশাহী বেতারে অভিনয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন শামস সুমন। পরবর্তীতে রেডিও নাটক, উপস্থাপনা ও সংবাদপাঠে তাঁর কণ্ঠের জোরে নিজের জায়গা করে নেন। সেই ভরাট, মায়াময় কণ্ঠ তাঁকে টেলিভিশনের পর্দায় নিয়ে আসে।

তৌকীর আহমেদ বলেন, শামস সুমনের অভিনয়ে আলাদা ভঙ্গি ছিল। তাঁর উচ্চারণে স্মার্টনেস ছিল। তাঁর মধ্যে রসবোধ ছিল। সব মিলিয়ে তাঁর দক্ষতা সমসাময়িক অনেক অভিনয়শিল্পীর চেয়ে ভালো ছিল।

তৌকীর বলেন, “সুমন একটা বেদনার নাম। তাকে আমরা আরও বড় জায়গায় ঢেলে দিতে পারিনি। হয়তোবা সে নিজেও চায়নি। সে শুটিং ইউনিটের প্রাণ হয়ে বেঁচে থাকত। সুমন শোআপ করেনি। ও মনে করত, ওর যত টুকু যোগ্যতা–দক্ষতা, সেটাই তাকে তার অবস্থানে নিয়ে যাবে। আমার আক্ষেপ, সুমনের আরও অনেক বড় জায়গায় থাকার কথা ছিল।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক জগতে পদার্পণ করেন শামস সুমন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। শিল্পের পাশাপাশি সমাজ-রাজনীতির প্রতি তাঁর গভীর সংবেদনশীলতা ছিল। জীবনের শেষদিনেও সেই সচেতনতা অটুট ছিল।

নব্বইয়ের দশকে টিভি নাটকে পরিচিত ও প্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ‘অহংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘যদি ভালোবাসো’, ‘এই তো আমাদের বাড়ি’, ‘রাতের অতিথি’, ‘অতন্দ্র প্রহর’, ‘খোঁজ’-সহ বহু নাটকে অভিনয় করেন শামস সুমন। তৎকালীন জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকেও তাঁর উপস্থিতি ছিল। ফিরতে চেয়েছিলেন, আক্ষেপ নিয়েই চলে যান অভিনেতা শামস সুমন।

চলচ্চিত্রেও তাঁর অবদান ছিল। ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘চোখের দেখা’, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’—একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘স্বপ্নপূরণ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

গত বৃহস্পতিবার অভিনয়শিল্পী সংঘ থেকে তাঁকে স্মরণ করা হয়। ‘প্রিয় বন্ধু শামস সুমন স্মৃতিতে অম্লান’ আয়োজনটি হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন রাবিয়ান সাংস্কৃতিক কর্মী সম্মিলন তাঁকে স্মরণ করবে।