ভাগ্য বদলে দেশে ফিরে সন্তানকে কোলে নেবেন এই আশায় প্রবাসে গিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবুল খায়ের (৪২)। কিন্তু শেষ সম্বল বাড়ি বিক্রি করে কিরগিজস্তান যাওয়ার পর দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। আজ তাঁর লাশ এসেছে গ্রামের বাড়িতে, যেখানে ১৫ মাসের সন্তান মো. আরহাম বাবাকে ছুঁয়ে দেখতে পারল না।
আবুল খায়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কিরগিজস্তানের সোকুলুক শহরের একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। গত ২০ মার্চ দুপুরে কাজের সময় হঠাৎ মাটির স্তূপ তাঁর ওপর ধসে পড়ে। সহকর্মীরা উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আবুল খায়েরের লাশ পৌঁছায় মোগড়া গ্রামের বাড়িতে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ কেঁপে ওঠে। প্রতিবেশীরাও লাশ দেখতে ভিড় জমায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে বিয়ে করেন আবুল খায়ের। পরিবারের অভাব দূর করতে ওই বছরের জুন মাসে তিনি কিরগিজস্তানে যান। তাঁর একমাত্র সন্তান মো. আরহামের বয়স এখন ১৫ মাস। আধো আধো কণ্ঠে ‘বাবা, বাবা’ বলে শিশুটি ডাকে। আরহামের জন্মের আগেই কিরগিজস্তান চলে গিয়েছিলেন আবুল খায়ের। জীবিত বাবাকে কখনো ছুঁয়ে দেখতে পারবে না এই শিশু।
আবুল খায়েরের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘তার সহায়-সম্বল বলতে কিছুই নেই। সে বিদেশ যাওয়ার পর তার স্ত্রী-সন্তানকে থাকার জন্য আমি আমার জায়গায় ঘর করতে দিয়েছি। এখন আরহামকে নিয়ে তার স্ত্রী কীভাবে চলবে, তা নিয়েই আমাদের পরিবারের সবার চিন্তা।’






