চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে যানজটের মধ্যে ধীরগতিতে চলা একটি পিকআপ ভ্যানকে পেছন থেকে হঠাৎ ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ড ভ্যান। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারানো কাভার্ড ভ্যানটিকে পেছনের স্টিলের পাতবোঝাই ট্রাক আঘাত করে। পরপরই ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয় আরেকটি কাভার্ড ভ্যান। এই দুর্ঘটনায় এক কিশোর নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মিরসরাই উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে ঘটে এ দুর্ঘটনা। নিহত শিক্ষার্থী আশরাফুল মাহমুদ (১৭)। সে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার পেয়ার আহমেদের ছেলে।
আহতরা মো. সোহাগ (২০), মো. রাশেদ (৩২) ও নুরুল আমিন (৩২)। তাঁদের মধ্যে নুরুল আমিন পথচারী। রাশেদ দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের চালক এবং সোহাগ তার সহকারী।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় দুটি যানবাহনের মাঝখানে চাপা পড়েন নুরুল আমিন ও আশরাফুল। এছাড়া ট্রাকের স্টিলের পাতায় আঘাত পান রাশেদ ও সোহাগ। চারজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আশঙ্কাজনক অবস্থার আশরাফুল ও সোহাগকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছে আশরাফুলের মৃত্যু ঘটে।
আশরাফুলের মামা মিজানুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, আশরাফুল এবার স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেছে। তার বাবা সোনাপাহাড় বিশ্বরোড এলাকার চৈতন্যের হাটে একটি দোকান করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সেই দোকানে বাবাকে সাহায্য করত আশরাফুল। গতকাল রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফিরতে গিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল সে। তখনই দুটি যানবাহনের মাঝখানে চাপা পড়ে।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জুবায়ের হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুর্ঘটনায় আশরাফুলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা হয়েছিল।
জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পায় পুলিশ। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়ক থেকে যানগুলো সরিয়ে যান চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করা হয়েছে।






