ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির ভেতরে পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। বুধবার ভোরে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির পর জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে নাবিকেরা ইরানের বাহিনীর কাছে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি চেয়েও পাননি।
নাবিকেরা জানান, অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এসে জাহাজটি নোঙর করে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন এই জাহাজে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন।
জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে হরমুজ থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে পৌঁছানোর পর আমরা বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনীর কাছে অনুমতি চাই। তারা অনুমতি দেয়নি। অনুমতি না পাওয়ার পর ৩০ নটিক্যাল মাইল সামনে গিয়ে নোঙর ফেলি, যাতে অনুমতি দেওয়ার তিন–সাড়ে তিন ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা যায়।”
রাশেদুল হাসান আরও বলেন, “নোঙর যেখানে ফেলা হয়েছে, তা পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা। আমাদের কাছাকাছি অনেক জাহাজ রয়েছে, সবাই হরমুজ প্রণালি নিরাপদে পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।”
যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি পার হতে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি জাহাজ। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতির পর বুধবার থেকে প্রণালিটি দিয়ে বেশ কিছুসংখ্যক জাহাজ চলাচল করেছে। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও লেবাননে ইসরায়েল হামলা চালায়। এরপর প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও নিয়ন্ত্রণ করে ইরান।
বিএসসির এই জাহাজ ২ এপ্রিল থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসি। তবে সেবারও অনুমতি না পেয়ে হরমুজ পার হওয়া যায়নি।
অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে। এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি পেল না জাহাজটি।






