জনপ্রিয় মার্কিন টিভি সিরিজ ‘ফ্রেন্ডস’-এ চ্যান্ডলার বিং চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন ম্যাথিউ পেরি। কানাডার বংশোদ্ভূত এই মার্কিন নাগরিক দীর্ঘদিন হতাশা ও মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করে আসছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজের বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত কেটামিন সেবনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মাদক সরবরাহের দায়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের জাসভিন সাঙ্গা নামের এক নারীকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুসংক্রান্ত মামলায় গত বছর লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় আদালতে পাঁচজন দোষ স্বীকার করেন। তাঁদের মধ্যে একজন জাসভিন সাঙ্গা। তদন্তে প্রকাশ পায়, সাঙ্গা একটি বড় মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ধনী ও হলিউড তারকাদের কাছে মাদক সরবরাহ করতেন এবং ‘কেটামিন কুইন’ নামে পরিচিত ছিলেন। ৪২ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক গত সেপ্টেম্বরে পাঁচটি ফেডারেল অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর মধ্যে একটি ছিল কেটামিন বিতরণ, যা মৃত্যু বা শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

সাঙ্গার একটি ‘গোপন ডেরা’ ছিল, যেখানে কোকেন, জ্যানেক্স, নকল অ্যাডারল পিল ও কেটামিন রাখা হতো। কেটামিনের ৫০টি শিশি সরবরাহের পর তাঁর ব্যবসা ও বিলাসী জীবন ধসে পড়ে। কারণ, সেই চালান শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজের অভিনেতা ম্যাথিউ পেরির কাছে। অতিরিক্ত কেটামিন সেবনে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিনি মারা যান।

শুনানির সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাঙ্গা এবং নিজের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তবে বিচারক বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুশোচনা দেখাননি এবং তাঁকে অবশ্যই অপরাধের জবাব দিতে হবে।

পেরির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তদন্তে একটি বিস্তৃত মাদক চক্রের চিত্র উঠে আসে, যাতে চিকিৎসক ও সহকারীদেরও সম্পৃক্ততা ছিল। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই নেটওয়ার্কই পেরিকে অবৈধ কেটামিন সরবরাহ করে তাঁর আসক্তিকে কাজে লাগায়। মামলার নথি অনুসারে, পেরি প্রথমে হতাশাজনিত সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে চিকিৎসকের নির্দেশনায় কেটামিন ব্যবহার করতেন। কিন্তু পরে নির্দেশিত পরিমাণের চেয়ে বেশি সেবন করতে শুরু করেন।

ফেডারেল তদন্তসংক্রান্ত আদালতের নথি থেকে জানা যায়, এই পর্যায়ে পেরি একাধিক চিকিৎসক ও একজন মাদক কারবারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই কারবারি এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সাঙ্গার কাছ থেকে মাদক সরবরাহ করতেন। পেরির পরিবার আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়। তাঁর সৎমা ডেবি পেরি বলেন, এই ঘটনা তাঁদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে।

মামলার অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসকও রয়েছেন। ইতিমধ্যে দুই চিকিৎসক ও একজন সরবরাহকারী বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন, বাকি দুজনের সাজা এখনো ঘোষণা হয়নি।

বিবিসি অবলম্বনে