২০১২ সালে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস রচনা করেছিলেন বাংলাদেশি নারী নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন। তারপর থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর কোনো বাংলাদেশি নারী এভারেস্ট অভিযানে যাননি। এই বিরতি ভঙ্গ করতে প্রস্তুত হচ্ছেন পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। তাঁর এভারেস্ট যাত্রা, প্রস্তুতি ও স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন সজীব মিয়া

নুরুন্নাহার বলেন, “আমি ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেব ১১ এপ্রিল। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে পরে যাব এভারেস্ট বেজক্যাম্প। নেপালের এইটকে এক্সডিশনের সঙ্গে আমার এই অভিযান প্রায় ৫০ দিনের। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে সামিট (শৃঙ্গে আরোহণের অভিযান) হয়ে থাকে।”

২০১২ সালের পর দেশ থেকে আর কোনো নারী এভারেস্ট অভিযানে যাননি। তবে নারী পর্বতারোহী তৈরি হয়নি এমন নয়, মূলত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেই অভিযানগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

ঘরে-বাইরে, সামাজিক ও প্রাকৃতিক নানা বাস্তবতায় মেয়েদের এগিয়ে যেতে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। শারীরিক দিক থেকেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। সব মিলিয়ে পথটা সহজ নয়। তাই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন নুরুন্নাহার। কারণ, তিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েছেন।

পাহাড়ের প্রতি তাঁর মায়া ধীরে ধীরে বেড়েছে। ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়াকালীন ফিল্ডওয়ার্কে সীতাকুণ্ডে যান। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ওপরে উঠে মনে হয়েছিল, যেন এভারেস্টে উঠেছেন! সেখান থেকেই পাহাড়ের প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বেশির ভাগ সময়ই বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরেছি। আমার বাড়ি রংপুরে; কিন্তু ছুটিতে যতবার না বাড়ি গেছি, তার চেয়ে বেশি গেছি পাহাড়ে।

চাকরিজীবনে জড়িয়ে পড়লেও সেই টান কমেনি, বরং বেড়েছে। ভুটানের পাহাড়, ভারতের সিকিমের পাহাড়, শেষে নেপালে যান। ২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্পে ঘুরে এসে মনে হয়, আরও উঁচুতে যাওয়া দরকার। পরের বছর এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক করেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন করে ভাবায়। তখনই বোঝেন, শুধু ট্রেকিং নয়, পর্বতারোহণে সিরিয়াসভাবে এগোতে হবে। এরপর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে পর্বতারোহণের মৌলিক প্রশিক্ষণ নেন। এরপর প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ভারতে পর্বতারোহণ করেন। সেই সময় থেকে আনুষ্ঠানিক পর্বতারোহণ শুরু হয়। একই বছর বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব-বিএমটিসির সঙ্গেও যুক্ত হন।

এরপর প্রতিবছর পর্বতারোহণের মৌসুমে পর্বতে গেছেন। গত বছর ৭ হাজার ১২৬ মিটার হিমলুং হিমাল পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেছেন।

এবার এভারেস্ট অভিযানে যাচ্ছেন। এই স্বপ্ন পূরণে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। পড়াশোনা শেষে এই ব্যাংকে তাঁর চাকরির জীবন শুরু হয়। বর্তমানে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে জেনারেল ব্যাংকিংয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠান তাঁকে স্পনসর করেছে। এই সহযোগিতা তাঁর জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের।