জুভেন্টাসের কিংবন্তি সভাপতি জিয়ান্নি আনেয়েল্লি একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘বাজে ফুটবলাররা নিশ্চিতভাবেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পায়, আর সেরাদের জন্য কোনো অর্থই আসলে যথেষ্ট নয়।’

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের অন্যতম। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নেও তাঁদের বেতন-ভাতা অনেকের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। তবু আনেয়েল্লির কথামতো, সেরাদের জন্য কোনো অর্থই যথেষ্ট নয়!

ফুটবলের এই দুই মহাতারকার আয় আমেরিকার এনএফএল (আমেরিকান ফুটবল), এনবিএ (বাস্কেটবল) বা এমএলবি (বেসবল) লিগের তারকাদের সঙ্গে তুলনা করলে কী দাঁড়ায়? এই ‘পয়সাওয়ালা’ লিগগুলোতে ডলারের ঝনঝনানি সবচেয়ে বেশি। চলুন হিসাবটা দেখে নিই।

রোনালদো সৌদি প্রো লিগের আল নাসরে খেলছেন, যা টাকার খনির মতো। বছরে তিনি পান ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেতন। দ্য অ্যাথলেটিকের হিসাবে প্রতি সেকেন্ডে তাঁর পকেটে ঢোকে ৭ ডলারের বেশি! এই অঙ্কের ধারেকাছেও অন্য কোনো অ্যাথলেট নেই।

মেসির ক্ষেত্রে ইন্টার মায়ামির সহস্বত্বাধিকারী হোর্হে মাস জানিয়েছেন, বোনাসসহ বার্ষিক আয় ৭ থেকে ৮ কোটি ডলারের মতো। মায়ামিতে তাঁকে ‘প্রতিটি পয়সার যোগ্য’ মনে করা হয়।

এনএফএলে ডালাস কাউবয়েজের কোয়ার্টারব্যাক ডাক প্রেসকট সবাইমে এগিয়ে। ২০২৪ সালে চার বছরের ২৪ কোটি ডলারের চুক্তি করেছেন, বার্ষিক ৬ কোটি ডলার। এটি মেসির চেয়ে কম, রোনালদোর আয়ের চার ভাগের এক ভাগ মাত্র। এনএফএলে স্যালারি ক্যাপ আছে, যা লিগের আয়ের ওপর নির্ভর করে। স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেডের ম্যাট ভের্দেরামে বলছেন, কোয়ার্টারব্যাকদের বেতন ফুলছে, তাই প্রেসকটের শীর্ষস্থান বেশি দিন টিকবে না। তাঁকে সেরা বলে খুব কম লোক মানে।

বাস্কেটবলে গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের স্টিফেন কারি ২০২৫-২৬ মৌসুমে পাবেন ৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। তিনি বাস্কেটবলকে বদলে দিয়েছেন, এমনকি পেপ গার্দিওলা ও মিকেল আরতেতার মতো ফুটবল কোচরাও তাঁকে উদাহরণ দেন। এনবিএর সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় শেই গিলজিয়াস-আলেকজান্ডার বার্ষিক গড়ে পাবেন ৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। তবু মেসির চেয়ে কম, রোনালদোর সঙ্গে তুলনাই হয় না।

বেসবলে স্যালারি ক্যাপ নেই। তবু লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সের কাইল টাকার বার্ষিক আয় ৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার। একই দলের শোহেই ওহতানি ২০২৪ মৌসুমের আগে ১০ বছরের ৭০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিলেন, যা প্রথমে বিশ্ব রেকর্ড ছিল। কিন্তু চুক্তিতে মারপ্যাঁচ আছে—১০ বছর খেলার সময় বছরে মাত্র ২০ লাখ ডলার, বাকি ৬৮ কোটি ২০৩৪-২০৪৩ সালে। গড় বার্ষিক ৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। অর্থাৎ রোনালদোর ধারেকাছেও নেই, মেসির চেয়েও অনেক পিছিয়ে।