আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর আটক, হেফাজতে নেওয়া, গ্রেপ্তার দেখানো এবং আদালতে উপস্থাপনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সংগঠনটি একটি বিবৃতি জারি করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলেছে, একজন নাগরিককে মধ্যরাতে আটক দেখানোর যৌক্তিকতা কী ছিল? পরিস্থিতি বিবেচনায় দিনের বেলায় অধিক স্বচ্ছ ও নিয়মানুবর্তী প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা দরকার। কারণ আইন প্রয়োগে প্রয়োজনীয়তা ও স্বচ্ছতা রক্ষা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।

আসকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিরীন শারমিনকে আদালতে হাজির করার সময় গণমাধ্যমে যে বিশৃঙ্খলা চিত্র উঠে এসেছে, তা ন্যূনতম শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির জন্য তাঁকে হুড়োহুড়িতে পড়তে দেখা গেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারপ্রার্থী প্রত্যেকের নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ।

গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলা অপরিহার্য বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় বা শিথিলতা ন্যায়বিচারের মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।

বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষায় সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ। সম্প্রতি জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য এই দায় আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত যখন নির্বাচনী অঙ্গীকারে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকারের নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট ও কার্যকর প্রতিফলন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণে ন্যায়, স্বচ্ছতা ও মানবিকতা সমানভাবে প্রতিফলিত হয়।