যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণার পরও রাজধানীতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন লেগেছে। প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল নিয়ে চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের মতো আজও প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি।
বেলা ৩টার দিকে পরিবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে প্রাইভেট কার চালক মোহাম্মদ পিন্টুর সঙ্গে মুক্তকণ্ঠ কথা বলে। তিনি জানান, গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় এই ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়ান। তখন গাড়ির সারি ছিল পরিবাগের ভেতরের একটি সড়কে। হাতিরপুল কাঁচাবাজার, কাঁটাবন, শাহবাগ ঘুরে সন্ধ্যা ৭টা বেজে ফিলিং স্টেশনের সামনে আসতে তিনি পারেন। তখন জানানো হয় তেল নেই। বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যান তিনি।
আজ সকাল ৬টায় আবার লাইনে দাঁড়ান মোহাম্মদ পিন্টু। হাতিরপুল কাঁচাবাজার থেকে শাহবাগ ঘুরে বেলা ৩টায় ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছান। তিনটার পর অবশেষে তেল নেন তিনি।
মোহাম্মদ পিন্টু বলেন, ‘গতকাল সাতটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাইনি। আজ আবার ভোর ছয়টায় সেই লাইনে দাঁড়িয়েছি। আসলে কিছু করার নেই।’ এই স্টেশনে ৩৩২টি মোটরসাইকেল ও ১৯২টি প্রাইভেট কার অপেক্ষায় ছিল।
সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, তখনো তেল আসেনি। তবে সকাল থেকে ৯৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৭টি প্রাইভেট কার লাইনে দাঁড়িয়ে।
দুপুর ১২টায় আরামবাগের এইচ কে ফিলিং স্টেশনে ১৪৫টি প্রাইভেট কার ও ১৩০টি মোটরসাইকেল অপেক্ষায়। তবে তখনো তেল পৌঁছায়নি। এই পাম্পে ভোর ৫টায় প্রথম লাইনে দাঁড়ান নায়েব আলী। ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাননি তিনি। নায়েব আলী বলেন, ‘ভোর পাঁচটার দিকে সবার আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন পর্যন্ত তেল পাইনি। পাম্পের লোকজন বলেছে দুপুর ১২টার সময় তেল আসবে। এরপর তেল পাবো।’
বেলা ১টায় মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লাইন মতিঝিল থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবন অতিক্রম করেছে। প্রাইভেট কারের সারি দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত। বেলা দেড়টায় মৎস্য ভবন মোড়ের রমনা ফিলিং স্টেশনে ১৫২টি প্রাইভেট কার ও ১৯৫টি মোটরসাইকেল অপেক্ষায়।
এখানে সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়ান মো. ইয়াছিন। তখন গাড়ির লাইন মৎস্য ভবনের কোণায়। প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচা ঘুরে ফিলিং স্টেশনে এসে জানতে পারেন তেল শেষ। তিনি বলেন, ‘সেই ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ঘুরে ঘুরে এখন পর্যন্ত এসে শুনি তেল শেষ। আমার সামনে চারটা গাড়ি আছে। পাম্পের লোকজন বলেছে, তেল শেষ। তেল আসতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগবে। আপনারা থাকলে থাকতে পারেন। আমরা তেলের জন্য অপেক্ষা করছি।’ তেলের ঘাটতির বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিলে এমন ভোগান্তি হতো না বলে উল্লেখ করেন এই চালক।






