চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গতকাল রাতে পিএসজির হাতে ০–২ গোলে পরাজিত হলেও লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট ঘুরে দাঁড়ানোর আশা রাখছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তাঁর দল কার্যত ‘ছিন্নভিন্ন’ হয়ে গেছে। ফুটবল বিশ্লেষক ও লিভারপুলের সাবেক স্কটিশ রাইটব্যাক স্টিভ নিকোল বলেছেন, এই ম্যাচে লিভারপুল ছয় গোলও খেতে পারত।

প্যারিসে দেজিরে দুয়ে ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার গোলে পিএসজি এখন সেমিফাইনালে এক পা এগিয়ে রেখেছে। আগামী মঙ্গলবার বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে অ্যানফিল্ডে ফিরতি লেগ খেলতে নামবে লুইস এনরিকের দল। তবু পিএসজি হয়তো প্রথম লেগের খেলা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপই করবে। কারণ, যতগুলো সুযোগ পেয়েছিল, তাতে অন্তত পাঁচ-ছয় গোলে জিততে পারত বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

পিএসজিকে ঠেকাতে ৩-৪-৩ ফরমেশনে দল নামিয়ে একাদশের বাইরে রাখেন মোহামেদ সালাহকে আর্নে স্লট। কিন্তু এই কৌশল একেবারেই কাজে আসেনি। শুরু থেকেই লিভারপুলকে চেপে ধরে পিএসজি। ম্যাচে পিএসজি ১৭টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে, যেখানে লিভারপুল ৩টি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। ফলে ২০২০ সালে আতালান্তার বিপক্ষে ম্যাচের পর প্রথমবার লক্ষ্যে শট রাখতে ব্যর্থ হয় লিভারপুল। প্রায় নিখুঁত পিএসজির সামনে বিধ্বস্ত হয়ে যায় লিভারপুল।

এমন দুর্দশা সত্ত্বেও স্লট মনে করেন, অ্যানফিল্ডে জিতে সেমিফাইনালে ওঠা লিভারপুলের সম্ভব। লিভারপুল কোচ বলেন, ‘পুরো ম্যাচটা বিবেচনা করলে বলতে হয়, ২–০ ব্যবধানে হারাটাই আমাদের জন্য ভালো। ইতিবাচক দিক হলো, আমরা এখনো লড়াইয়ে আছি। তাদের অ্যানফিল্ডে আনতে পারব, আর আমরা জানি, অ্যানফিল্ড আমাদের জন্য কতটা শক্তিশালী জায়গা।’

দলের পারফরম্যান্স নিয়ে স্লট যোগ করেন, ‘আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। ম্যাচের বড় একটা সময় আমরা শুধু টিকে থাকার লড়াই করেছি। হয়তো মৌসুমের এই সময়টাতেও আমরা যেন টিকে থাকার অবস্থাতেই আছি। পিএসজি মাঠের সব জায়গায় দারুণ গতির খেলোয়াড়ে ভরা। যেদিকেই তাকান, চোখে পড়বে অবিশ্বাস্য গতি। (আশরাফ) হাকিমি আর (নুনো) মেন্দেস আক্রমণে ভয়ংকর। তারা শুধু দৌড়ায় না, যেন দৌড়ের চেয়েও এক ধাপ ওপরে। এটা সামলানোই কঠিন।’

কৌশল ও পরিকল্পনায় পিএসজির সামনে দাঁড়াতে না পারার বিষয়টি স্লট তুলে ধরেন এভাবে, ‘আমরা যখনই প্রেস করার চেষ্টা করেছি, তখনই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছি। নানা কৌশলে চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু ফল একই। পিএসজি আমাদের উড়িয়ে দিয়েছে। ওরাই ভালো দল ছিল। আমরা হাল ছাড়িনি, সে কারণেই এখনো আমাদের সুযোগ আছে। কিছু সুযোগ মিস করে ওরাই আমাদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছে।’

একই কথা বলেছেন নিকোলও। তাঁর ভাষায়, ‘এই ম্যাচে লিভারপুল পাঁচ বা ছয় গোল খেতে পারত। তারা পিএসজির কাছে পাত্তাই পায়নি।’ এখন ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়াতে লিভারপুলের ভরসা ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডের প্রভাব। স্লটের মতে, আগামী সপ্তাহে সমর্থকদের ভূমিকাও হবে গুরুত্বপূর্ণ, ‘আশা করি, অ্যানফিল্ডে আমরা ভিন্ন এক ম্যাচ দেখাতে পারব। আমরা যদি খুব আক্রমণাত্মকভাবে প্রেস করতে চাই, তাহলে সমর্থকেরা এখানে সহায়ক হতে পারে।’

সমর্থকদের পাশে চেয়ে স্লট আরও বলেন, ‘আমাদের সমর্থকেরা আমাদের জন্য বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তবে সেটার প্রয়োজনও আছে, আজকের ম্যাচেই পরিষ্কার হয়েছে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের সমর্থকদের বেশি দরকার।’