নরসিংদীর রায়পুরায় এক সোনার দোকানে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে কথাকাটাকাটির সময় দুই কর্মচারী তিন তরুণের গায়ে অ্যাসিড ছুড়ে ঝলসিয়ে দেওয়ার অভিযোগে জড়িয়েছে। এ ঘটনায় এক তরুণের দুই চোখসহ তিনজনেরই শরীরের বিভিন্ন অংশ আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে রায়পুরা পৌরসভার হাসিমপুর এলাকার মৌলভীবাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত তরুণরা হলেন রায়পুরা পৌরসভার শ্রীরামপুর এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী দুলাল বিশ্বাসের ছেলে দ্বীপ বিশ্বাস (১৯), মো. শহীদুল্লাহর ছেলে ওবায়দুল্লাহ (১৯) ও রামনগরহাটি এলাকার কলিম মিয়ার ছেলে আহমেদ সেজান (১৮)।
আহতদের স্বজনেরা জানান, দ্বীপ বিশ্বাসের সঙ্গে হাসিমপুরের মৌলভীবাজারের লতা স্বর্ণ শিল্পালয় নামক সোনার দোকানের কর্মচারী উদয়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দ্বীপ সেই দোকানে যান। তখন উদয়ের সঙ্গে কথাকাটাকাটি শুরু হয় এবং সৌরভ নামের আরেক কর্মচারীকে নিয়ে দ্বীপকে মারধর করেন উদয়। খবর পেয়ে দ্বীপের বন্ধু ওবায়দুল্লাহ ও সেজান দোকানে পৌঁছান। বাকবিতণ্ডার মধ্যে উদয় ও সৌরভ সোনার কাজে ব্যবহৃত অ্যাসিড ছুড়ে তাঁদের আক্রমণ করেন। ফলে দ্বীপ বিশ্বাসের দুই চোখসহ তিনজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁদের রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে একজনকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে এবং দুজনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান। স্বজনেরা বিকেলেই অ্যাম্বুলেন্সে তাঁদের ঢাকায় নিয়ে যান। বর্তমানে ওই দুই হাসপাতালেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান বলেন, অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া তিন রোগীর মধ্যে দ্বীপ বিশ্বাসের অবস্থা গুরুতর ছিল। অ্যাসিডে তাঁর দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তাঁকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুজনের শরীরের বিভিন্ন অংশও অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়ায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই দোকানের শাটারে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত দুই কর্মচারী উদয় ও সৌরভ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোনার দোকানটির মালিক কেশব রায়কে আটক করেছে রায়পুরা থানার পুলিশ।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘অর্থ লেনদেন–সংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষে কথা–কাটাকাটির সময় অ্যাসিড ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই সোনার দোকানের মালিককে থানায় আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি, ভুক্তভোগীদের চিকিৎসায় ব্যস্ত স্বজনেরা। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।’






