জ্বালানিসংকটের জন্য সন্ধ্যায় মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সিনেমার শো বন্ধ রয়েছে, কিন্তু সিঙ্গেল স্ক্রিন হলে নিয়মিত প্রদর্শনী চলছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতেও নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। ঘুরে এসে লিখলেন মকফুল হোসেন।
পল জয়ধর গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ছেলেকে নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখায় দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভির টিকিট খুঁজতে আসেন। টিকিট বিক্রেতা জানালেন, দুপুরে শো ছিল, সন্ধ্যায় কোনো সিনেমার শো নেই।
সরকারি নির্দেশনা পালন করে স্টার সিনেপ্লেক্স সন্ধ্যার পর সব সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিকেল পাঁচটার পর কোনো শো আর শুরু হচ্ছে না। সেদিন বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখায় শেষ শো ছিল বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে, সিনেমাটি ছিল রাক্ষস।
শেষ শো শুরুর পরপরই দিনের টিকিট কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়। শুধু অনলাইন কাউন্টার খোলা ছিল। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় শপিং মলে দর্শকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।
ছেলে ওবেদ দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি দেখার জন্য বায়না ধরেছিল। পরীক্ষার পর স্কুলও ছুটি। কিন্তু সিনেমা না দেখেই ছেলেকে নিয়ে ফিরতে হলো পল জয়ধরকে। নিউ ইস্কাটন থেকে আসা এই দর্শক মুক্তকণ্ঠকে জানান, সন্ধ্যায় শো বন্ধের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। এসে জানতে পারলেন। বুধবার দুপুরে আবার আসবেন।
সন্ধ্যা ছয়টার পর দুই দর্শক বনলতা এক্সপ্রেস ও দম সিনেমার টিকিট খুঁজলেন। তাঁরাও সন্ধ্যায় শো বন্ধের কথা জানতেন না। টিকিট না পেয়ে ফিরে গেলেন।
সরকারি নির্দেশনা মেনে রোববার থেকে স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমাস, লায়ন সিনেমাসের মতো বড় মাল্টিপ্লেক্সগুলো সন্ধ্যা সাতটার পর শো বন্ধ রেখেছে। শো বন্ধ থাকলেও অনেক দর্শক না জেনে সন্ধ্যার পরও কাউন্টারে ভিড় করছেন।
স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা সিটি শাখার এক টিকিট বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় ১৫ থেকে ২০ জনের মতো দর্শক আসছেন।
মাল্টিপ্লেক্সে ঈদের পাঁচ সিনেমা চলছে—বনলতা এক্সপ্রেস, দম, প্রিন্স, রাক্ষস ও প্রেশার কুকার। সন্ধ্যার পর শো বন্ধ থাকায় দর্শকের সংখ্যা কমেছে।
লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক মুক্তকণ্ঠকে জানান, সন্ধ্যার পর শো বন্ধ হওয়ায় প্রতিদিন চারটির মতো শো কমেছে। এতে ৩০০ থেকে ৪০০ দর্শক কমেছে। তিনি বলেন, “কাজকর্ম শেষ সন্ধ্যা ও রাতের শোতে দর্শক সিনেমা দেখতে আসেন। দিনের বেলা টিকিট কম বিক্রি হচ্ছে।”
এক বিবৃতিতে সন্ধ্যার পর মাল্টিপ্লেক্সে শো চালু রাখার অনুরোধ করেছেন নির্মাতা ও প্রযোজকেরা।
সিঙ্গেল স্ক্রিনে কোনো নির্দেশনা নেই
সন্ধ্যায় মাল্টিপ্লেক্স বন্ধ থাকলেও সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিনেমার শো চলছে। তবে দর্শকের সংখ্যা খুবই কম। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন জানান, সিঙ্গেল স্ক্রিনে সাতটার পর শো বন্ধের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা এখনো পাননি।
বেশ কয়েকজন হলমালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সচরাচর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শেষ শো থাকে। শেষ হতে রাত সাড়ে আটটা বেজে যায়। আগের নিয়মেই শো চলছে। বুকিং এজেন্ট সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হলে সচরাচর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর আর কোনো শো থাকে না। আগের নিয়মেই সন্ধ্যার শো চলছে। মোটামুটি রাত আটটার থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে শো শেষ হয়।
মাদারীপুরের টেকেরহাটে সোনালী সিনেমা হলের কর্ণধার রাহুল খান জানান, সন্ধ্যার পর সিনেমার শো বন্ধের কোনো নির্দেশনা তাঁরা পাননি। ফলে আগের নিয়মে সন্ধ্যায় শো চলছে। তবে দর্শক কম। ঈদের পাঁচ সিনেমার মধ্যে সিঙ্গেল স্ক্রিনে শুধু দুটি চলছে—প্রিন্স ও রাক্ষস।
শিল্পকলায়ও নাটক চলছে
শিল্পকলা একাডেমিতে মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেল, এক্সপেরিমন্টাল থিয়েটার হলে নাটক চলছে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সুড়ঙ্গ মঞ্চস্থ করেছে এথিক। দর্শকসংখ্যা জনাত্রিশেক।
নাটকের শিল্পী নাহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, ওয়ার্কিং ডে হিসেবে দর্শকের সংখ্যা বেশ কম। গত সোমবার রাতে শিল্পকলা একাডেমির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, শো বন্ধের কোনো নির্দেশনা তাঁরা পাননি। ফলে শো চলছে। তবে বিষয়টি নিয়ে অনেকে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।






