মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অব্যাহত রাখতে দরপত্র ছাড়া সরাসরি ইউনিসেফ থেকে ৪২১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার টিকা কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রীসভার বৈঠকে এ অনুমোদন জারি হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় নীতিগত অনুমোদনের তথ্য সাংবাদিকদের জানায়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ইউনিসেফের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ টিকা সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উন্মুক্ত দরপত্রে টিকা সরবরাহ সময়সাপেক্ষ, খোলাবাজারে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পাওয়া যায় না এবং গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন।

ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয় বা সংগ্রহ করা সব টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান বজায় থাকে এবং ক্রয় করা টিকার ক্রয়মূল্য তুলনামূলকভাবে কম থাকে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে চাঁদপুর ও ভোলায় সেতু নির্মাণের প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘কনস্ট্রাকশন অব ব্রিজ ওভার দ্য রিভার মেঘনা অন শরিয়তপুর-চাঁদপুর রোড’ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ভিত্তিতে গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রায় ৩০টি জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৮ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ চার লেনের সেতু, উভয় পাশে ৮ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ৯ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে। সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।

বৈঠকে ‘বরিশাল-ভোলা সড়কে কালা বাঁদর এবং তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ভোলা ব্রিজ’ শীর্ষক আরেক প্রকল্পও পিপিপি ভিত্তিতে করার নীতিগত অনুমোদন পায়। ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশালসহ ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে এটি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ১০ দশমিক ৮৬৭ কিলোমিটার চার লেনের সেতু এবং ১৮ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ হবে। সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।