দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা আল্লু অর্জুন ‘পুষ্পা’ ছবির মাধ্যমে ভারতবাসী এবং উপমহাদেশের দর্শকদের মন জয় করেছেন। আজ ৮ এপ্রিল তাঁর জন্মদিন। এই উপলক্ষে জানা যাক তাঁর জীবনী, ক্যারিয়ার এবং সম্পদের কিছু তথ্য।
পারিবারিক পটভূমি: সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত শৈশব
১৯৮২ সালের ৮ এপ্রিল চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন আল্লু অর্জুন। তাঁর বাবা আল্লু অরবিন্দ দক্ষিণ ভারতের প্রতিষ্ঠিত প্রযোজক এবং তিনি মেগাস্টার চিরঞ্জীবীর ভাতিজা। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তবে তারকা হওয়ার জন্য পারিবারিক সুবিধার উপর নির্ভর করেননি তিনি; নিজের প্রয়াসে নিজের স্থান তৈরি করেছেন।
অভিষেক এবং সংগ্রামের সময়
শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করলেও নায়ক হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০০৩ সালে ‘গঙ্গোত্রী’ ছবিতে। ছবিটি মাঝারি সফল হয় কিন্তু তখনো বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়নি। ২০০৪ সালে ‘আরিয়া’ মুক্তির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এই ছবিতে অভিনয়, সংলাপ এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। এখান থেকে শুরু হয় তাঁর প্রকৃত যাত্রা।
ব্যর্থতা অতিক্রম করে শিখরে
ক্যারিয়ারের শুরুতে কয়েকটি ব্যর্থ ছবি থাকলেও তিনি নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন। ‘পারুগু’, ‘জুলায়ি’, ‘সারাইনোডু’—এসব ছবিতে তাঁর ভিন্ন ভূমিকা দেখা গেছে। তবে ‘পুষ্পা’র দুই কিস্তি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘পুষ্পা রাজ’ চরিত্রে অভিনয় করে দক্ষিণ ভারতের সীমা অতিক্রম করে গোটা ভারত এবং আন্তর্জাতিক দর্শকদের মন জয় করেন। ‘ঝুঁকেগা নেহি’ সংলাপ হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ট্রেন্ড। লাল চন্দনকাঠের চোরাকারবারি হয়ে ছক্কা হাঁকানোর মাধ্যমে তিনি সুপারস্টারে পরিণত হন।
স্টাইল আইকন এবং প্যান ইন্ডিয়া তারকা
আল্লু অর্জুন শুধু অভিনেতা নন, ট্রেন্ডসেটারও। ফ্যাশন, হেয়ারস্টাইল, নাচ—সবকিছু ভক্তদের অনুকরণ করে। তাই তাঁকে ‘স্টাইলিশ স্টার’ বলা হয়। নাচের দক্ষতা তাঁকে আলাদা করে। গানের স্টেপগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ভাইরাল হয়।
ব্যক্তিগত জীবন: সংযত এবং পরিবারকেন্দ্রিক
পর্দার বাইরে আল্লু অর্জুন শান্ত জীবনযাপন করেন। ২০১১ সালে স্নেহা রেড্ডিকে বিয়ে করেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, পরিবারই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
সম্পদ এবং বিলাসী জীবনযাত্রা
দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের একজন আল্লু অর্জুন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদ প্রায় ৫০০ কোটি ভারতীয় রুপি। হায়দরাবাদে ১০০ কোটি মূল্যের ‘ব্লেসিং’ নামের বাংলোতে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে থাকেন। সাত কোটি টাকার ভ্যানিটি ভ্যান এবং ব্যক্তিগত বিমান রয়েছে তাঁর। ইনস্টাগ্রামে এসবের ছবি শেয়ার করেছেন এবং পরিবার নিয়ে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান। দামি গাড়ি এবং ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট তাঁর আধুনিক তারকাজীবনের প্রতীক। ‘ধুরন্ধর ২’, ‘পুষ্পা’, ‘জওয়ান’—এসব ছবিতে রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে রয়েছেন।
‘পুষ্পা’ নিয়ে বিতর্ক
‘পুষ্পা ২’ প্রিমিয়ারে পদপিষ্ট হয়ে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় মামলায় গ্রেপ্তার হন আল্লু অর্জুন এবং হায়দরাবাদের চঞ্চলগুড়া জেলে রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টায় ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পান কিন্তু রিলিজ অর্ডার সময়মতো না পৌঁছায় রাতটা হাজতখানায় কাটাতে হয়। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা।
হিন্দুস্তান টাইমস, ডেকান ক্রনিকল অবলম্বনে






