রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি তাঁরা দিয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্রশিবির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেড়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান। অন্যান্য বক্তব্য দিয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আশিকুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞানের রাইসুল ফারিদ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের আহমাদুল হক। এরা ইসলামী ছাত্রশিবির ও স্বতন্ত্রভাবে ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থী ছিলেন।

শামসুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জর্জরিত। এসব অনিয়ম রোধ ও অধিকারবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী সংসদের বিকল্প নেই। কিন্তু ‘শিক্ষার্থী সংসদের কল্যাণ তহবিল’ নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছর বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছে, যার ব্যয়ের কোনো সুস্পষ্ট তথ্য বিগত প্রশাসনের কাছে নেই।

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী সংসদ প্রতিষ্ঠা প্রাণের দাবি হয়ে ওঠে বলে উল্লেখ করেন শামসুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান, বিক্ষোভ ও সভা-সেমিনার করে দাবি জানিয়ে আসছে। এমনকি আমরণ অনশন কর্মসূচির পর শিক্ষার্থী সংসদের অধ্যাদেশ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গেজেট আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সংযুক্ত করা হয়।

সম্মেলনে অভিযোগ ওঠে, আইনে যুক্ত হলেও ব্রাকসু নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করেনি। বরং নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে কালবিলম্ব, কমিশনের পদত্যাগ, তফসিল স্থগিতকরণ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে টালবাহানা ও তারিখ পেছানো হয়েছে। সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট ও মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হলেও হঠাৎ তফসিল স্থগিত করে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। উপাচার্যসহ প্রশাসনের এক অংশ তাঁদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ।

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের তফসিল চালু করে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তা না হলে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়াসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শওকাত আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মনে করি না, সংবাদ সম্মেলন করে ফলপ্রসূ কিছু হবে। আমার কাছে তাঁরা আসেনি, তারপরও আমি আহ্বান জানাই, তাঁরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে। এখানে আমার ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই।’