ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপট্টনমে একটি স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচে রানআউট নিয়ে উঠে আসা বিবাদে এক আম্পায়ার ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহত আম্পায়ারের নাম দোলা অজিত বাবু। ঘটনার সময় তিনি তাঁর বন্ধু বুদুমুরি চিরঞ্জীবীর সঙ্গে খেলা পরিচালনা করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার বিকেলে একটি স্থানীয় মাঠে দুই দলের মধ্যে চলতে থাকা ম্যাচে একটি রানআউট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সার্কেল ইন্সপেক্টর মাল্লেশ্বর রাও জানান, অজিত বাবু এবং চিরঞ্জীবী হস্তক্ষেপ করে মাঠেই বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু কান্তা কিশোর নামের এক দর্শক এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের গালিগালাজ করতে থাকেন।

ম্যাচ শেষে অজিত বাবু, চিরঞ্জীবী ও তাঁদের বন্ধুরা কাছাকাছি এক জায়গায় যান। মাল্লেশ্বর রাও বলেন, ‘সেখানে পৌঁছানোর পরপরই আবারও তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে কিশোর হঠাৎ ছুরি বের করে দুই আম্পায়ারের ওপর হামলা চালায়।’

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অজিত বাবু ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই হামলায় আম্পায়ার চিরঞ্জীবীও আহত হয়েছেন।

অজিতের বাবা দোলা আপ্পালা রাজু অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অজিতের ভাই অভিযোগ করেছেন, বিনায়ক নগরের বাসিন্দা কিশোর হামলার সময় মাতাল ছিল। তিনি দাবি করেন, একটি রান নিয়ে যে বিবাদ তৈরি হয়েছিল, তা গ্রামের বড়দের হস্তক্ষেপে আগেই মিটে গিয়েছিল। কিন্তু কিশোর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।

নিহত ব্যক্তির ভাই এনডিটিভিকে বলেন, ‘ম্যাচে এক রান নিয়ে তর্কাতর্কি হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত কিশোর কোনো খেলোয়াড় ছিল না। সে মাঝপথে এসে গালিগালাজ শুরু করে, যা থেকে বিবাদ বড় আকার ধারণ করে। পরে গ্রামের বড়রা এসে বিষয়টি মিটিয়ে দেন। কিন্তু সন্ধ্যায় কিশোর মদ্যপ অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। সে পকেটে ছুরি নিয়ে পাদিগাদলি জংশনে এসে চিরঞ্জীবীকে ডাকে এবং ঝগড়া শুরু করে। হঠাৎ করেই সে অজিত বাবুর বুকে ছুরি চালিয়ে দেয়।’

ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। আহত অজিতকে প্রথমে ভিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। পরে তাঁকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত সোয়া আটটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।