পাওনা টাকা আদায়ের অভিযোগে আটক স্বেচ্ছাসেবক দলের এক ওয়ার্ড নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টায় হট্টগোল এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের বক্তব্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে আটক করে আনার পর তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে সাবেক এক ছাত্রদল নেতা বাইরে লোকজন জড়ো করে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন।
সেই সাবেক ছাত্রদল নেতার নাম ইমাম হোসেন ওরফে আবির। নিজেকে নগর যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দেন ইমাম হোসেন, যিনি নগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে যুবদলের নগর কমিটি না থাকায় তিনি সভাপতির পদপ্রত্যাশী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনি এলাকায় যায়। সেখানে তারা জানতে পারে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এক ব্যক্তিকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ ভুক্তভোগীসহ পাঁচজনকে থানায় নিয়ে আসে।
কিছুক্ষণ পর নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে ইমাম হোসেন থানায় যান এবং তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের (অনুসারী) আটকের কারণ জানতে চান। এ সময় থানার বাইরে ৩০ থেকে ৪০ জনকে জড়ো করা হয় বলে পুলিশ দাবি করে। একপর্যায়ে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের বদলির হুমকি দেওয়া হয়। কথাকাটাকাটির মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অন্যদিকে ইমাম হোসেন বলেন, স্থানীয় পাওনাদারেরা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সাগর হোসেন ওরফে রুবেলের কাছে অভিযোগ দেন। সাগরের কর্মীরা ওই ব্যক্তিকে সেখানে নিয়ে এলে তাঁর মা ৯৯৯–এ ফোন করেন। পুলিশ গিয়ে সবাইকে থানায় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে সাগর থানায় গেলে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে লকআপে আটকে রাখা হয়।
ইমাম হোসেনের দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি থানায় গেলে তাঁর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, পাওনা টাকার বিষয়ে ৯৯৯–এ খবর পেয়ে দুই পক্ষকে থানায় আনা হয়েছিল। তখন ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে এক যুবক থানায় আসেন এবং বাইরে কিছু লোক জড়ো করেন। ভুল–বোঝাবুঝির কারণে কিছুটা শোরগোল হয়। পরে তাঁকে বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। ধস্তাধস্তির কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে নিজেদের মধ্যে আপস করার প্রতিশ্রুতিতে সাগরসহ আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।






