রাজশাহীর বাগমারায় কয়েলের আগুনে পুড়ে মারা গেছে সাবিত্রী বালার (৬৮) একজোড়া গরু—তাঁর শেষ সম্বল। গরু রক্ষা করতে গিয়ে নিজেও গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। গতকাল সোমবার রাতে চাঁন্দেরআড়া হিন্দুপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

সাবিত্রী বালার স্বামী ৪০ বছর আগে মারা গেছেন। ছোট মেয়েকে নিয়ে স্বামীর ভিটায় থাকতেন তিনি। মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন সেখানেই। এরপর একাই খুপরিঘরে বসবাস করতেন সাবিত্রী এবং গবাদিপশু পালন করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় গোয়ালঘরে একজোড়া গরু রেখে পাশের খুপরিঘরে ঘুমাতে যান তিনি। এর আগে গোয়ালঘরে কয়েল জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েলের আগুন থেকে গোয়ালঘরে আগুন লেগে যায়। পাশের ঘর থেকে উত্তাপে বৃদ্ধার ঘুম ভাঙে। তখন চিৎকার শুরু করে চোখের সামনে গাভিন গরুটিকে বাঁচাতে গোয়ালঘরে ঢোকেন। গাভিটি উদ্ধারের চেষ্টায় দগ্ধ হয়ে ফিরে আসেন সাবিত্রী। পরে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিভায়, কিন্তু দুটি গরু পুড়ে মারা যায়। লোকজন দগ্ধ সাবিত্রীকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে গোয়ালঘরে পুড়ে যাওয়া দুটি গরু পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের খুপরিঘরে আলু, কিছু চাল ও ব্যবহারের কিছু পোশাক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। প্রতিবেশী যোগেন্দ্রনাথ বলেন, সাবিত্রী স্বামীর মৃত্যুর পর একাকী স্বামীর ভিটাতে বসবাস করছেন। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করে চলতেন। আরেক প্রতিবেশী স্বপন কুমার বলেন, সাবিত্রী বালা স্বামীর ভিটা ছেড়ে কোথাও যাননি। এলাকার লোকজন সহযোগিতা করেন মাঝেমধ্যে। একমাত্র অবলম্বন ছিল দুটি গরু। সেটাও চলে গেল, সঙ্গে খুপরিঘরও।

হাসপাতালে থাকা সাবিত্রীর মেয়ে (৪১) বলেন, মায়ের শরীর পুড়ে গেছে, চিকিৎসা চলছে। অবস্থা ভালো না বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। সাবিত্রী বালাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।