চট্টগ্রাম নগরের একটি বাসা থেকে ১৫ জন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশি দাবি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচ নারী আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করলেও বাকিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির একটি বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দর মির্জা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ, দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুজলা অন্তরা, নগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সঞ্জয় কান্তি নাথ, এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ, পার্থ প্রতিম নন্দী, যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান, আয়েশা হেভেন ও মো. জাকের হোসেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ডবলমুরিং থানার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ আইনজীবীকে আজ বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কামেলা খানম, সুজলা অন্তরা, শারমিনা ইয়াসমিন ও আয়েশা হেভেনের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।"
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের নেত্রী উম্মে হাবিবার বাসায় ১৫ আগস্ট পালনের জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়।"