জেন-জি’র দ্রুত বদলে যাওয়া ফ্যাশনের সঙ্গে মিলেনিয়ালদের স্থির স্টাইল—দুই প্রজন্মের রুচি আলাদা হলেও এ বৈশাখে কাচের চুড়িতে তারা একই রকম। বর্ষবরণের সাজে পরিচিত রেশমি চুড়ির পাশাপাশি এবারের হট ট্রেন্ড ‘কাশ্মীরি চুড়ি’ দুই প্রজন্মকেই আকৃষ্ট করেছে।
পয়লা বৈশাখ সামনে। শাড়ির সঙ্গে এই উৎসবে কাচের চুড়ি অবশ্যই একটি জরুরি অংশ। রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের চুড়ির বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। বাহারি রঙ ও নকশার চুড়ি কিনছেন সবাই। সেখানে স্বর্ণিল ও সুমাইয়া নামের দুই বোনকে দেখা গেল চুড়ি কেনাকাটায়। স্বর্ণিল কিনেছেন ল্যাভেন্ডার ও সোনালি রঙের চুড়ি। সুমাইয়া নির্বাচন করেছেন রংধনু ও গোলাপি কাচের চুড়ি।
স্বর্ণিল জানালেন, নীলক্ষেতে বই কিনতে এসে চুড়ির বাজারে ঢুকেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং কাশ্মীরি চুড়ির খোঁজ করছেন। পয়লা বৈশাখ মাথায় রেখে কাচের চুড়ি কেনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে হাতভর্তি রেশমি চুড়ি দেখিয়ে সুমাইয়ার উত্তর, “কাচের চুড়ি কিনতে আবার উৎসব লাগে!” জানালেন, এবারের বর্ষবরণে দুই বোনের হাতেই শোভা পাবে কাচের চুড়ি।
কাচের চুড়ির নানা নাম ও ধরন রয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় সাদামাটা একরঙা রেশমি চুড়ি। এটি হয় মসৃণ ও খাঁজকাটা দুই রকম। সাদা, লাল, হলুদ, কালো, নীলসহ বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায়। তামান্না, পরদেশি, কেশ, দাদিমা, রেইনড্রপ, সাইকেল, পাতাবাহার, স্ট্রবেরি, র্যাম্বো, টিকটক, ভাবিজি—এসব বাহারি নামের চুড়ি বাজারে সাজানো। তামান্নায় কাচের ওপর চুমকি বসানো। চিকন কাচের চুড়ি কেশ নামে পরিচিত, একরঙা ও ‘মাল্টি কেশ’ দুই ধরনের।
দাদিমায় পাথরের কাজ ও কাচ কেটে নকশা। রেইনড্রপে কাচের ওপর বৃষ্টির ফোঁটার মতো ছোট বল। এসব চুড়ির অধিকাংশ ভারত থেকে আসে। দেশীয় কাচের চুড়ির মধ্যে তামান্না, ভেলভেট ও আফজাল। বিক্রেতারা জানান, পলিশ ভালো হওয়ায় ভারতীয় চুড়িই বেশি চলে। দেশি চুড়ি কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়।
কাশ্মীরি চুড়ির ধারা গত ঈদের আগে থেকে শুরু। এটি আসলে প্রচলিত কাচের চুড়ির সঙ্গে ঘুঙুর লাগানো ধাতব চুড়ি মিলিয়ে পরা। ঘুঙুরযুক্ত এই ধাতব চুড়িকে ‘কাশ্মীরি ঝুমকা’ বলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কম্বিনেশন কাশ্মীরি চুড়ি নামে পরিচিত। তামান্না, দাদিমা ও রেইনড্রপের সঙ্গে এগুলো বেশি পরা হচ্ছে। ঘুঙুর লাগানো ধাতব চুড়ি সোনালি, রুপালি ও কালো রঙের। এক ডজন কাচের চুড়ির সঙ্গে চারটি কাশ্মীরি ঝুমকা। চারটি কাশ্মীরি ঝুমকার দাম ২০০ টাকা। চারটি কাশ্মীরি ঝুমকাসহ এক ডজন কাচের চুড়ি ৫০০ টাকা।
রাজধানীর চকবাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. সানি প্রায় ৩৫ বছর ধরে চুড়ির ব্যবসায়। তিনি বলছিলেন, “আমি স্কুল থেকে চুড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কাচের চুড়ি বলতে মসৃণ রেশমি চুড়িই বোঝায়। চল্লিশ বছর ধরে দেখে আসতেছি। কাশ্মীরি চুড়ি বলতে যেটা এসেছে, এটা আসলে একটা হাইপ। সপ্তাহখানেক পর হয়তো আবার থাকবে না।”
রং, নকশা ও তৈরির দেশভেদে দাম ভিন্ন। চকবাজার কাচের চুড়ির পাইকারি বাজার। এখানে গ্রুস হিসেবে বিক্রি হয়। এক গ্রুসে ২৪ মুঠ চুড়ি, প্রতি মুঠে ৬টি। এক গ্রুসের দাম ৪৫০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। ফুটপাতেও বিক্রি হয়। গাউছিয়া মার্কেটে সব ধরনের চুড়ি পাওয়া যায়। খুচরায় ডজন হিসেবে বিক্রি। এক ডজন রেশমি চুড়ি ৬০ টাকা। খাঁজকাটা রেশমি ৮০ টাকা। রেইনড্রপ এক ডজন ২৫০ টাকা। দাদিমা, পাতাবাহার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়।






