সরকারের পর সরকার ক্ষমতায় আসলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহরুন রুনির নৃশংস হত্যার তদন্ত এগোয়নি। বিগত সরকারগুলো তদন্ত চায়নি বলেই এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিচার না হওয়ায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আয়োজনে সাগর–রুনি হত্যার বিচার দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো সরকারই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আন্তরিকতা দেখায়নি। তাই এত দীর্ঘ সময় লেগেছে। তিনটি সরকার ক্ষমতায় এলেও মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১২৫ বার পেছিয়ে গেছে। এমন চাঞ্চল্যকর মামলায় এতবার সময়সীমা বাড়ানোর নজির আছে কি না, তা জানা যায়নি।
বক্তারা নতুন সরকারের কাছে আশা জানান যে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে আন্তরিক হবেন। সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে আন্দোলনের ঘোষণাও দেন তারা। তাঁদের মতে, এত বছরেও বিচার না হওয়া শুধু সাংবাদিক সমাজের জন্য লজ্জার নয়, স্বাধীন দেশের মানসম্মানের প্রশ্ন।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, চারটি সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও কেউ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিল, তারাও পালন করেনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধানসহ একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। সেই টাস্কফোর্সের মেয়াদও শেষের দিকে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হারুনুর রশিদ স্বপন বলেন, "হত্যাকাণ্ডের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রগতির কথা বলা হলেও ১৪ বছরে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। যারা অগ্রগতির কথা বলেছিল, তারাই মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।"
আরকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনোজ রায় বলেন, "কোনো সরকারই এই হত্যা মামলার তদন্ত করতে দেয়নি। এ কারণে সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ফলাফল জানা যায় না।"
ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ, মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হামিদুল হক, ডিআরইউর জ্যেষ্ঠ সদস্য মশিউর রহমান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ সোহেলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় এই সাংবাদিক দম্পতি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।






