দেশের যাতায়াতে এখন ইলেকট্রিক বাইক বা ই-বাইকের জনপ্রিয়তা চরমে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এর চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছেছে, বিশেষ করে ঢাকায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি।
আমদানিকারকদের তথ্য অনুসারে, গত কয়েক বছরে ই-বাইকের আমদানি বেড়েছে কয়েক গুণ। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মাথায় রেখে ম্যাস গ্লোবাল সলিউশনস লিমিটেড বাজারে নিয়ে এসেছে ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডের আধুনিক পোলাক্স ই-বাইক।
বিশ্বব্যাপী ই-বাইকের বাজারে চীন উন্নত প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় জোগানদাতা। সেই প্রযুক্তি ও টেকসই কাঠামোর সমন্বয়ে ম্যাস গ্লোবাল চারটি ভিন্ন মডেল নিয়ে এসেছে, যা বাংলাদেশের রাস্তা ও গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা।
পোল্যাক্স ‘ডাবল স্টার’
দীর্ঘ পথ চালানোর জন্য এবং ব্যাকআপ নিয়ে উদ্বিগ্ন যারা, তাদের জন্য এই মডেল আদর্শ। এর বিশেষত্ব ডুয়াল পাওয়ার ইঞ্জিন (ইলেকট্রিক ও জেনারেটর ইঞ্জিন)।
১০০০ ওয়াটের এই বাইক এক চার্জে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলবে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৫ কিলোমিটার গতির এতে রয়েছে তিনটি মোড পাওয়ার সিস্টেম, এলসিডি ডিসপ্লে, অ্যান্টি-থিফ অ্যালার্ম ও ইউএসবি মোবাইল চার্জার। এটি ‘লো ফুয়েল কনজাম্পশন’ নিশ্চিত করে দীর্ঘ যাত্রার নিশ্চয়তা দেয়।
পোল্যাক্স ‘লোন স্টার’
শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ‘লোন স্টার’ স্মার্ট পছন্দ। এর আকর্ষণীয় ডিজাইন সহজেই নজর কাড়ে।
১ হাজার ৫০০ ওয়াটের এই বাইকের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার। লিথিয়াম ব্যাটারির দুই বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে। রিভার্স গিয়ার সুবিধা পার্কিংয়ে সাহায্য করে। ওয়াটারপ্রুফ ব্যাটারি থাকায় বৃষ্টিতে নিরাপদ। বিল্ট-ইন ও পোর্টেবল চার্জিং মোড বাড়তি সুবিধা দেয়।
পোল্যাক্স ‘স্টার ১২৫’
ট্র্যাডিশনাল স্কুটারের বাইরে স্পোর্টি লুক পছন্দ যারা, তাদের জন্য ‘স্টার ১২৫’। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন ‘চয়েস অব জেন–জি’।
হাইপারফরম্যান্স সিজি ১২৫ ইঞ্জিনের এতে সামনে ডিস্ক ব্রেক, পেছনে ড্রাম ব্রেক। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতি, ১২ লিটার ফুয়েল ট্যাংক, ৫ স্পিড গিয়ার সিস্টেম ও ডিজিটাল এলএইউডি ডিসপ্লে রয়েছে। গতি ও স্টাইলের সমন্বয় চায় এমনদের জন্য উপযুক্ত।
পোল্যাক্স ‘ট্রাই স্টার’
যাতায়াতে ভারসাম্য ও আরাম চায় যারা, তাদের জন্য তিন চাকার এই ই-বাইক চমৎকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বয়স্ক বা পণ্য ডেলিভারির কাজে কার্যকর।
১ হাজার ৫০০ ওয়াটের গতি ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার। লিথিয়াম ব্যাটারি (60V 28AH)-এর দুই বছরের ওয়ারেন্টি। রিভার্স গিয়ার, ‘থ্রি স্টেপ’ মোড, ফুল বডিগার্ড, বড় ফুটরেস্ট, রিমোট অন-অফ, অ্যান্টি-থিফ অ্যালার্ম রয়েছে। ওয়াটারপ্রুফ ব্যাটারি বৃষ্টিতে নিরাপদ।
কেন ম্যাস গ্লোবাল সলিউশনসের ই-বাইক
ম্যাস গ্লোবাল সলিউশনস প্রতিটি বাইকে ১০০% স্পেয়ার পার্টসের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। বাইকগুলো আইএসও ৯০০১: ২০১৫ সার্টিফায়েড কারখানা থেকে তৈরি, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখে।
সাশ্রয়ী খরচ, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করাই এই ব্র্যান্ডের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রেজওয়ান। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বাইকের স্পেসিফিকেশন ও সুবিধাগুলো প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছি, এগুলো পর্যালোচনা করলে সব গ্রাহকই পোল্যাক্স সিরিজটি বেছে নিতে উৎসাহিত হবেন। ই-বাইকের সার্ভিসিং ও পার্টসের বিষয়ে আমরা শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
পরিবেশের ওপর ই-বাইকের প্রভাব নিয়ে মাসুদ রেজওয়ান বলেন, “পোল্যাক্স বাইকগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করায় এগুলো থেকে কোনো ধরনের কার্বণ নির্গত হবে না, ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের সুযোগ নেই। ই–বাইকগুলো এক চার্জে ৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সক্ষম, যার মোট বিদ্যুৎ খরচ পড়বে ১০ টাকা, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী। অতিদ্রুত চার্জ করা সম্ভব হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় বাংলাদেশের গ্রাহকেরা আমাদের ই-বাইকের প্রতি বেশি আগ্রহী হবেন বলে আশা করি।”
যোগাযোগ: ম্যাস গ্লোবাল সলিউশনস, লেভেল-৪, স্পেস–৬, এস কে এস টাওয়ার, ৭ ভিআইপি সড়ক, মহাখালী, ঢাকা।
মোবাইল: ০১৭১৪-৪৬৫২৩৯, ০১৭১২–৪৭২৫৬৩
শোরুম: ১৬০/২৭, বাগানবাড়ি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা (সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের পশ্চিম পাশে)।






