বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ ঈদ পুনর্মিলনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। ২ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মুক্তকণ্ঠ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে মাকসুদ হোসেন পরিচালিত ‘সাবা’ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রদর্শনীতে এসেছিলেন পরিচালক মাকসুদ হোসেনের সঙ্গে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়কারী মেহজাবীন চৌধুরী, প্রযোজক ডা. আরিফুর রহমান, উপস্থাপক ও অভিনেত্রী মৌসুমী মৌ, মুক্তকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফসহ বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদ, ঢাকা মহানগর ও ঢাকার বিভিন্ন বন্ধুসভার সদস্যরা।
প্রদর্শনীর আগে মেহজাবীন চৌধুরী তাঁর ‘সাবা’ হয়ে ওঠার যাত্রা নিয়ে কথা বলেন। অভিনেত্রী বলেন, “শুরুর দিনগুলোতে মনে হতো সব ছেড়ে চলে যাই। অভিনয় অনেক কঠিন জিনিস মনে হতো, মডেলিংয়ে সময় বেশি দিতাম তখন। কিন্তু আস্তে আস্তে নির্মাতা থেকে দর্শকেরা আমাকে গ্রহণ করতে লাগলেন। অভিনয়ে একটা সময় পর মনে হলো জীবনে আমি আসলে কী করব। এরপর ভাবলাম সিনেমা করব। তবে এমন কাজ করতে চাই, যেটা মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে। এই গল্প শুনে ভালো লেগে যায়। ব্যক্তিগত একটি গল্প। আর গল্পটা পরিচালকের পরিবারের হওয়াই মনে হলো তিনি এটাকে বেশ ভালোভাবেই বানাবেন। সে জন্যই কাজটি করা।”
মুক্তকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, “সবচেয়ে খুশি হয়েছি বন্ধুসভা চলচ্চিত্র দেখার মাধ্যমে ঈদ পুনর্মিলনী করছে। চার থেকে পাঁচ বছর ধরে আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পাচ্ছে, প্রশংসিত হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের ফিল্মের বিরাট উত্থান।”
‘সাবা’ চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি বলেন, “‘সাবা’ ছবির গল্প খুবই সহজ-সরল এবং এতে কোনো নাটকীয় চমক বা সাসপেন্স নেই। এটি এমন একধরনের চলচ্চিত্র, যা দেখার সময় আপনার স্নায়ুর ওপর খুব বেশি চাপ তৈরি করবে না, বরং এটি ধীরে ধীরে আপনার মনের মধ্যে কাজ করতে শুরু করবে। হয়তো ছবিটি দেখে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি কিছু অনুভব করবেন না, কিন্তু পরবর্তী সময় এই ছবির রেশ আপনার মনে বারবার ফিরে আসবে।”
সাজ্জাদ শরিফ আরও বলেন, “ছবিটির উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে একটি অর্থপূর্ণ এবং অনন্য অভিজ্ঞতা দেওয়া, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এই কাজে পরিচালক মাকসুদ অত্যন্ত সফল হয়েছেন, কারণ, যখন কোনো ছবির শিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ সামগ্রিকভাবে সুন্দর হয়, তখন সেখানে পরিচালকের গভীর যুক্ততা ও মমতা ছাড়া তা সম্ভব হয় না। এই ধরনের নতুন ও সৃজনশীল কাজের প্রতি আমার সব সময়ই সমর্থন রয়েছে।”
পরিচালক মাকসুদ হোসেন জানান, তাঁর স্ত্রী ও শাশুড়ি ২৫ বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় পড়েন। সেই থেকে শাশুড়ি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন। এর পর থেকে মায়ের সব যত্ন নিয়ে আসছেন মেয়ে। ‘সাবা’ চলচ্চিত্রের গল্পে এই বিষয়টাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মাকে বাঁচিয়ে রাখতে একা মেয়ের লড়াই দেখানো হয়েছে। চলচ্চিত্রটির সহলেখক ত্রিলোরা খানই পরিচালকের স্ত্রী।
প্রযোজক আরিফুর রহমান ছবি তৈরির পেছনের গল্প শোনান। পরিচালক ওনার ছেলের বন্ধু। প্রযোজক হিসেবে যাত্রার গল্প বলেন। আসন্ন আরেকটি ছবি নিয়েও কথা বলেন।
‘সাবা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক, প্রযোজকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, “মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্ধুদের সঙ্গে “সাবা” নিয়ে কথা বলা। এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। বন্ধুদের মাঝে চলচ্চিত্রের মানবিক জায়গাটা নিয়ে ভাবনা বাড়ানো।”
‘সাবা’: মায়ের হুইলচেয়ারের পাশে মেয়ের লড়াই।
জাফর সাদিক জানান, বন্ধুসভা সব ভালো কাজ করে থাকে। এই ধরনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ভবিষ্যতে বন্ধুসভার পক্ষ থেকে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।
প্রদর্শনী শেষে ছিল পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্রটি নিয়ে সরাসরি কথা বলেন উপস্থিত দর্শকেরা। কেউ কেউ জানান তাঁদের ভালো লাগার অনুভূতি। নিজের জীবনের সঙ্গে অনেকেই গল্পটির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। কেউ আবার গল্পে নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরেন। সেগুলোর উত্তর দেন পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেত্রী।






