প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে হলিউডের আলোচিত মামলা চলছে ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনির। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে অভিনেত্রী বালডোনির বিরুদ্ধে মামলা করেন, অন্যদিকে বালডোনিও মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় নতুন মোড় এসেছে—আদালত ব্লেকের বালডোনির বিরুদ্ধে আনা কয়েকটি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন, যার মধ্যে যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। চলমান মামলায় এই আংশিক ধাক্কা সত্ত্বেও ব্লেক জানিয়েছেন, এই লড়াই কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
‘এটা কোনো সেলিব্রিটি ড্রামা নয়’
আদালত বেশিরভাগ অভিযোগ, বিশেষ করে যৌন হয়রানির অভিযোগ খারিজ করলেও ব্লেক লাইভলি পিছু হটেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ঘটনাকে ‘সেলিব্রিটি ড্রামা’ হিসেবে দেখানো আসলে সমস্যাটিকে ছোট করে দেখা। ব্লেকের মতে, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষকে এই বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়—যেন এটি শুধু তারকাদের সমস্যা, অন্য কারও নয়।
‘ডিজিটাল সহিংসতা বাস্তব’
ব্লেকের বক্তব্যের কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল সহিংসতা’। তিনি বলেন, অনলাইন আক্রমণ, মানহানি বা প্রতিশোধমূলক প্রচারণা—এসব কেবল মানসিক চাপই নয়, অনেক সময় শারীরিক যন্ত্রণার মতোই তীব্র প্রভাব ফেলে। ব্লেকের ভাষায়, এই সহিংসতা সর্বত্র—শুধু সংবাদমাধ্যমে নয়, স্কুল-কলেজ, কর্মক্ষেত্র, এমনকি স্থানীয় সম্প্রদায়েও। অর্থাৎ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বিস্তৃত সামাজিক সমস্যা।
মামলার বর্তমান অবস্থা
বিচারক ১৩টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি খারিজ করে দিয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অভিযোগ এখনো বহাল রয়েছে—প্রতিশোধমূলক আচরণ, সেই প্রতিশোধে সহায়তা ও চুক্তিভঙ্গ। এ অভিযোগগুলো নিয়ে আগামী মে মাসে বিচার শুরু হবে। সেখানে লাইভলি নিজেই আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে চান।
কেন খারিজ হলো অভিযোগ
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ব্লেক একজন স্বাধীন শিল্পী হিসেবে কাজ করছিলেন, ফলে ফেডারেল আইনে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রযোজ্য হয়নি। পাশাপাশি যে অঙ্গরাজ্যে শুটিং হয়েছে, সেই আইনের সঙ্গেও অভিযোগের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। তবে বিচারক এটাও উল্লেখ করেছেন যে অভিনেত্রীর অভিযোগ আনার পেছনে ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ ছিল—যা মামলার বাকি অংশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বালডোনির অবস্থান
অন্যদিকে বালডোনি বরাবরের মতোই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীরা মনে করছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত তাঁদের পক্ষকেই শক্তিশালী করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
২০২৪ সালের আলোচিত রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’। মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই ছবিটির দুই প্রধান তারকা ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি জড়িয়ে পড়েন হলিউডের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও তিক্ত আইনি ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে। সেই দ্বন্দ্ব শুধু আদালত পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকেনি, লালগালিচা থেকে শুরু করে বন্ধুত্বের গোপন বার্তা পর্যন্ত সবকিছু টেনে এনেছে জনসমক্ষে। এমনকি এতে জড়িয়ে পড়েছেন বিশ্বসংগীতের সুপারস্টার টেইলর সুইফটও। ছবিটির শুটিং চলাকালে নিজের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে ব্লেক লাইভলি মামলা করেন জাস্টিন বালডোনি ও তাঁর নিয়োজিত এক ব্যবস্থাপনা–বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে। লাইভলির অভিযোগ, তিনি শুটিং সেটে বালডোনির আচরণ নিয়ে আপত্তি জানানোর পর পরিকল্পিতভাবে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করার একটি প্রচারণা চালানো হয়। পরে বালডোনিও মানহানির পাল্টা মামলা করেন। গত দেড় বছর এ মামলা নিয়ে বহু খবর হয়েছে।
পেজ সিক্স অবলম্বনে






