দিনরাত কাজের চাপে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, চোখে অক্লান্ত ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু বিছানায় শুতে না শুতেই ঘুম উধাও হয়ে যায়! তার বদলে মাথায় হাজারো চিন্তা ভিড় জমিয়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র বলা হয়। অর্থাৎ শরীর ক্লান্ত হলেও মস্তিষ্ক জেগে থাকে। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা এর পেছনে কয়েকটি শক্তিশালী কারণ চিহ্নিত করেছেন।

আমাদের শরীরে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নামে একটি নির্দিষ্ট ছন্দ রয়েছে। দিনের বেলা সক্রিয়তার জন্য ‘কর্টিসল’ স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয় এবং রাতে ঘুমের প্রস্তুতির জন্য ‘মেলাটোনিন’। কিন্তু অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে রাতেও কর্টিসলের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে শরীর ক্লান্ত হলেও মস্তিষ্ক বিপদের অনুভূতি করে এবং ঘুম আটকে দেয়।

ঘুমের ঠিক আগে মুঠোফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার এই সমস্যার বড় কারণ। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ মস্তিষ্ককে ভুল সংকেত পাঠায় যে দিন এখনো শেষ হয়নি। এতে মেলাটোনিন উৎপাদন বন্ধ হয় এবং মস্তিষ্ক সজাগ হয়।

দিনভর কাজে ব্যস্ত থাকায় মনের কথা ভাবার সময় হয় না। রাতে নীরবতায় মস্তিষ্ক সারাদিনের জমা চিন্তা, আগামীর পরিকল্পনা বা পুরনো স্মৃতি নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করে। এতে প্রি–ফ্রন্টাল কর্টেক্স সক্রিয় হয়ে ঘুমের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

স্নায়ুবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, ঘুমের জন্য মস্তিষ্ক প্রস্তুত করতে অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন:

ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখুন।

নিয়মিত রুটিন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ওঠার অভ্যাস গড়ুন, ছুটির দিনেও।

৪–৭–৮ শ্বাস ক্রিয়া: ৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে শ্বাস নিন, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৮ সেকেন্ড মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে।

ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: দুপুরের পর চা-কফি এড়িয়ে চলুন, কারণ এর প্রভাব শরীরে লম্বা সময় থাকে।

ঘুম কোনো বিলাস নয়, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য জৈবিক প্রক্রিয়া। তাই এই লড়াইয়ে জয়ের জন্য লাইফস্টাইলে ছোট পরিবর্তন জরুরি।
সূত্র: এমএসএন