ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল হাসিবুল ইসলাম (১০)। কিন্তু সে আর স্কুলে পৌঁছাতে পারেনি। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি লরির চাপায় তার প্রাণপণ হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় তার এক সহপাঠী গুরুতর আহত হয়। আজ শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগন্ডা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হাসিবুল ইসলাম চৌদ্দগ্রামের আমানগন্ডা এলাকার প্রবাসী আবুল হোসেনের ছেলে। আহত মেহজাবিন আক্তার (১০) একই এলাকার বাসিন্দা। তারা আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রী এবং চাচাতো ভাই-বোন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে হাসিবুল ও মেহজাবিন হেঁটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল। আমানগন্ডার তাকিয়া আমগাছ এলাকায় পৌঁছাতেই পেছন থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুজনকে চাপা দেয়। এরপর লরিটি উল্টে যায়। লরির নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই হাসিবুলের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় মেহজাবিন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশু হাসিবুলের লাশ উদ্ধার করে এবং আহত মেহজাবিনকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত শিশুটির চাচাতো ভাই খালেদ হোসেন বলেন, হাসিবুল ও মেহজাবিন একসঙ্গে স্কুলে আসা-যাওয়া করত। শনিবার সকালে নাশতা শেষে দুজন প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হয়। স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছালে দুর্ঘটনা ঘটে।

চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীদের চাপা দেওয়া লরিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়ির চালক ও সহকারী পলাতক। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনার প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।