ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে ‘কমিউনিটি ডিজিটাল স্টোরিটেলিং ফেস্টিভ্যাল’ বা সিডিএসটিএফের তৃতীয় আসর।

গত বুধবার ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের থিম ছিল ‘কালারস অব বাংলাদেশ’। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছে ডিজিটাল স্টোরিটেলার এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মিলনমেলায়।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল মুক্তকণ্ঠ ডটকম এবং সহযোগী ছিল স্টার সিনেপ্লেক্স।

এবারের উৎসবের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ ছিল সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে আগত একদল অদম্য গল্পকার ও নির্মাতা। প্রতিকূল উপকূলীয় জনপদ থেকে এসে তারা তাদের জীবনঘনিষ্ঠ ও লড়াকু গল্পগুলো তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের লড়াকু চেতনা এবং উৎসবের মূল থিমকে প্রতিফলিত করেছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন লিজা শারমিনের উদ্বোধনী বক্তব্যে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উৎসবের অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, “তৃতীয় আসরে এসে শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল গল্প আর তাদের কাজের প্রতি ভালোবাসা দেখা সত্যিই আনন্দের”। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তকণ্ঠের সিনিয়র কনটেন্ট ম্যানেজার খায়রুল বাবুই এবং চলচ্চিত্রনির্মাতা সম্পূর্ণা গাঙ্গুলী।

সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান এবং সিডিএসটিএফের প্রধান উপদেষ্টা আফতাব হোসেন বলেন, “শুরুর দিন থেকেই এই ফেস্টিভ্যাল মানুষের অকথিত গল্পগুলো সামনে আনার চেষ্টা করছে এবং আগামীতেও এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত প্যানেল ডিসকাশন এবং ‘ক্লাইমেট অ্যাডভোকেসি থ্রু কমিউনিটি স্টোরিটেলিং উইথ কোস্টাল ইউথস’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনী। এই পর্বে ইউএনডিপি বাংলাদেশের কমিউনিকেশন হেড মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব ফুটিয়ে তুলতে প্রান্তিক গল্পকারদের তৈরি কন্টেন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই অকৃত্রিম কণ্ঠস্বরগুলো বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে সিডিএসটিএফের মতো প্ল্যাটফর্ম অপরিহার্য।”

আলোচনায় উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনচিত্র, প্রতিকূলতা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা এবং নিজস্ব গল্প বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার গুরুত্ব তুলে ধরেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বাসিন্দা এবং প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিবানী মুন্ডা ও মো. আরিফুজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে উৎসবের আহ্বায়ক এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাবিল খান বলেন, “সিডিএসটিএফ দিন দিন আমাদের লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীরাই এই উৎসবের প্রাণ। আশা করি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আমরা এ উৎসবটি আয়োজন করতে পারব।”

অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দম’ নিয়ে বিশেষ সেশন। এখানে নির্মাতা রেদওয়ান রনি এবং ‘দম’ চলচ্চিত্রের কলাকুশলীরা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। ‘দম’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা রেদওয়ান রনি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিবর্তনে এ ধরনের উৎসব তরুণ নির্মাতাদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।”

সমাপনী পর্বে আয়োজক ও অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ‘ওয়ান মিনিট’ ক্যাটাগরিতে দলগতভাবে বিজয়ী হন শিবানী মুন্ডা, ডালিয়া গায়েন, বিক্রম বর্মন এবং আরিফুল ইসলাম। এছাড়া ‘ডিআইইউ বেস্ট কমিউনিটি ডিজিটাল স্টোরিটেলিং’ ক্যাটাগরিতে ‘দ্য কালারস আই ফিল’ চলচ্চিত্রের জন্য তানভীর জাওয়াদ এবং ‘জার্নালিজম’ ক্যাটাগরিতে ‘পথে হলো দেখা’ চলচ্চিত্রের জন্য শাহরিয়ার উদ্দিন তাওসিফ পুরস্কার পান।