দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। জলবসন্তও ছড়াচ্ছে। এই দুই রোগই ছোট-বড় সবাইকেই আক্রমণ করতে পারে, তবে শিশুরা বেশি ভুগছে। দুটো রোগই ভাইরাসজনিত এবং ছোঁয়াচে। এই ভাইরাস শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। ফলে তারা অন্যান্য জীবাণুর শিকারও হতে পারে। সাধারণত এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু দ্রুত সুস্থতা এবং জটিলতা এড়াতে যথাযথ পুষ্টি অত্যন্ত জরুরি।
জ্বর ও সংক্রমণের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা হতে পারে। তাই ঘন ঘন বিশুদ্ধ পানি দেওয়ার পাশাপাশি ডাবের পানি, ঘরে তৈরি ফলের রস, ভেজিটেবল স্যুপের মতো তরল খাবার খাওয়ানো উচিত। শরীরে পানি ধরে রাখতে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। যেসব শিশু মায়ের দুধ পান করে, তাদের আরও বেশি করে মায়ের দুধ খাওয়ানো দরকার।
হাম ও জলবসন্ত দুটি রোগই ভাইরাসজনিত ও ছোঁয়াচে
ভাইরাসজনিত রোগ কমাতে ভিটামিন সি খুব কার্যকর। তাই কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, বেরিজাতীয় ফল বা এগুলোর রস খাওয়ানো উচিত। এটি রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি মুখের রুচি দ্রুত ফিরিয়ে আনে।
এই সংক্রমণে ভিটামিন এ সবচেয়ে জরুরি। হামে শিশুদের চোখ শুকিয়ে যায়, ঘোলাটে হয়, কর্নিয়ায় জটিলতা দেখা দেয় এবং রাতকানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এসব এড়াতে গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা পেঁপে, লালশাক, মিষ্টি আলু, ডিমের কুসুম, কলিজার মতো ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টও খাওয়ানো যেতে পারে।
হামে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষমতা কমে যায়, কারও ডায়রিয়া হয়। তাই নরম পাতলা সবজি খিচুড়ি, সুজি, জাউভাত, পাতলা ডাল, স্যুপ, কম মশলার সেদ্ধ সবজি খাওয়ানো উচিত। এগুলো সহজপাচ্য। টক দইও দিতে হবে, এতে হজমশক্তি বাড়ে।
জিংক রোগ প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। উদ্ভিজ্জ জিংকের শোষণ কম, তাই প্রাণিজ উৎস থেকে নেওয়া ভালো। ঝিনুক, গরু-খাসির মাংস, মুরগির মাংস, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, পনির ও দই জিংকের চমৎকার উৎস।
হাম-জলবসন্ত সারার পরও দুই সপ্তাহ শরীর দুর্বল থাকে। জ্বরের পর পটাশিয়াম কমে যায়। তাই কলা, ডাবের পানি, খেজুর, অ্যাভোকাডো, ডালিম, মিষ্টি আলু, পুঁইশাকের মতো পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়াতে হবে।
খাবারে অনীহা হলে পেশি ক্ষয় ও ওজন কমতে পারে। তাই প্রোটিন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। প্রাণিজ প্রোটিন উদ্ভিজ্জের চেয়ে ভালো। মাছ, মাংস, ডিম, দুধের সঙ্গে ডাল ও বিচিজাতীয় খাবার রাখুন। প্রয়োজনে বয়স-ওজন অনুযায়ী দিনে এক থেকে তিনটে ডিমের সাদা অংশ খাওয়ান।
মো. ইকবাল হোসেন: জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল






