কিছু জায়গার সঙ্গে বুনিয়ে থাকে ব্যক্তিগত স্মৃতি, যেখানে প্রথম পদার্পণের দিনটি আজীবন মনে থেকে যায়। মন বারবার সেখানে ফিরে যেতে চায়। মুক্তকণ্ঠর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’র নিয়মিত বিভাগ ‘ফিরে ফিরে যাই’-তে প্রিয় ভ্রমণস্থানের গল্প শোনান বিভিন্ন ক্ষেত্রের খ্যাতনামা ব্যক্তিরা। আজ বলছেন অভিনয়শিল্পী বিদ্যা সিনহা মিম।
আমি নিয়মিত ঘুরতে ভালোবাসি। এই তো কয়েক দিন আগেই চীন থেকে ঘুরে এলাম। এতগুলো জায়গার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়টির নাম বলা কঠিন। তবু যদি একটা নাম করতে হয়, তাহলে সেটা ব্যাংকক। এই জায়গাটা আমার মন দখল করে নিয়েছে।
অনেক কারণ আছে। মনের মতো খাওয়াদাওয়া করা যায়। ঘোরাঘুরি করা যায়। এখানকার স্বচ্ছ জলের সমুদ্র আমার খুব ভালো লাগে। এত সুন্দর জল আর পরিবেশ! সবচেয়ে বেশি পছন্দ সমুদ্রপাড়ের বাংলোগুলো। বাংলো থেকে নামলেই সমুদ্র। সমুদ্র তো অনেক দেশেই আছে, কিন্তু এমন সহজে পা ভেজানোর সুযোগ আর কোথাও পাইনি। খরচ কম, এটাও একটা বড় কারণ। তাই ব্যাংককে যাওয়ার জন্য কোনো পরিকল্পনা লাগে না। মন চাইলেই বেড়িয়ে আসি।
২০১১ কি ২০১২ সালের দিকে প্রথম গিয়েছিলাম। তারপর থেকে কোনো বছর বাদ পড়েনি। এমনকি বছরে তিন-চারবারও যাই। এ বছর একবার গিয়েছি। আবার যেকোনো সময় চলে যেতে পারি।
৩০ বারের বেশি গেছি ব্যাংককে। মজার বিষয়, এখনো জায়গাটার প্রতি আগের মতোই ভালো লাগা রয়ে গেছে। অনেক স্মরণীয় ঘটনাও রয়েছে। তার মধ্যে একবার সনি (পোদ্দার)কে সারপ্রাইজ দিয়েছিলাম। বিয়ের পর ওর জন্মদিন উদযাপন করতে সেখানে গিয়েছিলাম। সমুদ্রে একটা ইয়টে ছিলাম আমরা। ও বুঝতেই পারেনি, এভাবে সারপ্রাইজ দেব। আরেকবার গভীর সমুদ্রে স্কুবা করেছি। স্কুবা ডাইভারদের সঙ্গে আমি আর সনি গভীর সমুদ্রে চলে যাই। তারপর জলে ডুব। আমার অবশ্য ভয় ও আনন্দ দুটোই হচ্ছিল। আমার চেয়ে সনি বেশি ভয় পাচ্ছিল। গভীরে জলের চাপ বেশি। সনি বলছিল, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে! পরে আমরা দ্রুত ওপরে চলে আসি।
আমার কাছে মনে হয় খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই সতেজ খাবার, পরিষ্কার বাতাস, জল, বাংলোতে সেবা—সবই পাই। সুযোগ-সুবিধা এখন আরও বেড়েছে, উন্নত হয়েছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সে তুলনায় খরচ বেশি বাড়েনি। আগের মতোই সাধ্যমতো বাজেটেই চলে যাওয়া যায়। তবে আগের চেয়ে যানজট বেড়েছে, এটা নজরে পড়ে।
সাক্ষাৎকার: সামির আলম






