আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় পুলিশ সপ্তাহ, ২০২৬ শুরু হবে। তবে দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। চার দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে অসমসাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য পুলিশ সদস্যদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান করা হবে।
অসমসাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য প্রতি বছর পুলিশ সদস্যদের বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়। এবার এই পদক পাবেন পুলিশের ১১৫ সদস্য। পুলিশ সদস্যদের পদক পরিয়ে দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাহসিকতা ও বীরত্বের স্বীকৃতি। আ.লীগ আমলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই বেশি পুরস্কার পেতেন। এবার মাঠপর্যায়ের সদস্যরা প্রাধান্য পেতে পারেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বিগত বছরগুলোতে সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হতো। এবার ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় পুলিশ সপ্তাহ পিছিয়ে পড়ে। গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ায় অনুষ্ঠানের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগ্রহে শেষপর্যন্ত মে মাসে পুলিশ সপ্তাহের সিদ্ধান্ত হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন পুলিশ সপ্তাহ উদ্যাপন কমিটির সদস্য। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রতি বছর পুলিশ সদস্যদের বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়। জাতীয় দুর্যোগ ও কোভিড মহামারির সময় সীমিত পরিসরে এ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল।
অসমসাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য প্রতিবছর পুলিশ সদস্যদের বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশি কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে সাত দিনের স্থলে গত বছরের ২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে পুলিশ সপ্তাহ তিন দিনে নামিয়ে আনা হয় এবং তখন কোনো প্যারেড রাখা হয়নি। শিল্ড প্যারেডসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতাও ছিল না তখন পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে। ওই বছরে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পত্রিকায় কোনো ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়নি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মিলনও হয়নি। রেডিও-টেলিভিশনেও হয়নি বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান। তবে এবারের আয়োজনে সব অনুষ্ঠান রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সপ্তাহ উদ্যাপন কমিটি।
আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত মতামতের ভিত্তিতে বিপিএম ও পিপিএম পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। এবার বিপিএম (সাহসিকতা) ১৫, বিপিএম সেবা ২৫, পিপিএম ২৫ ও পিপিএম সেবা ক্যাটাগরিতে ৫০ জনকে পদক দেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধানেরা বিপিএম সাহসিকতা, বিপিএম সেবা ও পিপিএম পুরস্কারের জন্য পুলিশ সদস্যদের সুপারিশসহ তালিকা প্রস্তুত করে সদর দপ্তরে পাঠাতে শুরু করেছে। গত বুধবার পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তরে ৭০ জন সদস্যের তালিকা পৌঁছেছে। তালিকা পাঠানোর শেষ তারিখ আগামী বুধবার। যাচাই–বাছাই করে একটি তালিকা তৈরি করে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠাবে উদ্যাপন কমিটি। আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত মতামতের ভিত্তিতে বিপিএম ও পিপিএম পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। এবার বিপিএম (সাহসিকতা) ১৫, বিপিএম সেবা ২৫, পিপিএম ২৫ ও পিপিএম সেবা ক্যাটাগরিতে ৫০ জনকে পদক দেওয়া হবে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ৪০০ জনকে বিপিএম, পিপিএম পদক দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে ১১৭ জনকে, এর আগের বছর ২৩০ জনকে এই পদক দেওয়া হয়।
পুলিশ সপ্তাহ উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে যুক্ত ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বিপিএম ও পিপিএম পুরস্কার দেওয়ার কথা। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেশি দেওয়া হতো। এবার মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা যাতে এই পুরস্কার বেশি পান, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দাবিদাওয়া, মাঠপর্যায়ে পুলিশের সমস্যাগুলো বিশদভাবে আলোচনার সুযোগ থাকবে এবার পুলিশ সপ্তাহে।






